রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল

পুলিশ ডেকে অ্যাসাঞ্জকে ধরিয়ে দিল ইকুয়েডর দূতাবাস

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৫৯

গত সাত বছর ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নিয়ে থাকা মুক্ত সংবাদ মাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। ইকুয়েডর সরকার তার রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করার ঘোষণা দেয়ার পর দূতাবাসের পক্ষ থেকে পুলিশ ডেকে তাদের হাতে এই সাংবাদিককে তুলে দেয়া হয়। অ্যাসাঞ্জ ২০১০ সালে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন। এসব নথি মার্কিন সরকার ও পেন্টাগনকে চরম বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিল। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে সুইডেনে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা হয়। গ্রেফতার এড়াতে ২০১২ সালে তিনি লন্ডনের  ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন। তারপর থেকে তিনি সেখানেই ছিলেন। লন্ডন পুলিশ বলেছে, এবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে আদালতের সমনে হাজির না হওয়ার কারণে।

সাড়া জাগানো বিকল্পধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে গ্রেফতারের সময় করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে রুশ সমপ্রচার মাধ্যম আরটি। ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যাসাঞ্জকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে ?তুলছে লন্ডন পুলিশ। ধস্তাধস্তির সময় অ্যাসাঞ্জকে চিত্কারও করতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো বলেছেন, বারবার ‘আন্তর্জাতিক আইন লংঘনের’ কারণে অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করা হয়েছে। তবে উইকিলিকস বলছে, বেআইনিভাবে অ্যাসাঞ্জের আশ্রয় বাতিল করেছে ইকুয়েডর। এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাসাঞ্জকে ধরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ঋণ মওকুফ চেয়েছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট মোরেনো। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানিয়েছে, ইকুয়েডর সরকার অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করায় রাষ্ট্রদূত তাদের দূতাবাসে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। সমপ্রতি ইকুয়েডর অভিযোগ তুলছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোর ব্যক্তিগত নথি ছড়িয়ে দিচ্ছিল উইকিলকস। -বিবিসি।