রাশিয়ায় বিজয় মেলা ও পিঠা উৎসব

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:১২
 
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দুঃসময়গুলোতে পরম বন্ধুরূপে পাশে দাঁড়িয়েছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। ভেঙে যাওয়ার পর বর্তমানে সেটি রাশিয়ান ফেডারেশন নামে প্রতিষ্ঠিত। এই দেশে অবস্থান করা প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাই বিজয়ের আনন্দ উদযাপন করে একটু ভিন্নভাবে। রাশিয়া যেন দ্বিতীয় বাংলাদেশ হিসেবে তাদের কাছে ধরা দেয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের লাল ও সবুজ রঙ ছড়িয়ে পড়েছিল রাশিয়ায় বাস করা বাংলাদেশিদের মধ্যে। এ আনন্দ আরো বৃহৎ করে আয়োজন করা হয় গত ২৩ ডিসেম্বর। 
 
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর রুদেন ইউনিভারসিটির ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে বিপুল উদ্দীপনায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্র প্রদর্শনী, পিঠা উ্ৎসব, নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় মেতেছিল মস্কো।
 
IMG0
 
২৩ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠান নিয়ে উত্তেজনা ও শিহরিত ছিল রাশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে। এতে রাশিয়াসহ বিশ্বের নানা জাতির দর্শনার্থীরা উপস্থিত হন। বিশেষ করে চিত্র প্রদর্শনী ও পিঠা উ্ৎসবে মস্কোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি ছাত্র, ব্যাবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।
 
সন্ধ্যা ৭ টায় রুদেন ইউনিভার্সিটির ছাত্র সংগঠনের সভাপতি মো. সাইফুল আলাম অনুষ্ঠানের স্বাগম ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তারপর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিচারণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। 
 
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মনোয়ার হোসেইন, সালাউদ্দিন আহমেদ, ওহাব লিটন প্রমুখ। ছাত্রদের আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজিব, সেলিম রেজা, সালমান আলি, গাউসুল আজম, মুরারি সরকার প্রমুখ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের দুতাবাস কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ মনসুর তানভির।
 
IMG1
 
আলোচনায় বক্তারা শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সকলের আপ্রাণ চেষ্টা করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন। বক্তারা মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্ককে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আরো মজবুত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 
 
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল বাংলাদেশি পোশাকে বাংলাদেশের গানে রুদন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নানা জাতির ছাত্র ও ছাত্রীদের নৃত্য পরিবেশন। মনোজ্ঞ এ অনুষ্ঠানে দেশের গান, ভায়োলিন এর মধুর সুর এবং নাচের তালে মনোরম এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন উত্তম চৌধুরী। নিনিশা, আকাশ, বাপ্পি, মাইম, মন্সুর তানভির দেশাত্মবোধক গানের পাশাপাশি আধুনিক গানও পরিবেশন করেন। রুমা, ফারিহা, আনিতা, মারিনা, আসলাম, মেহেদি, ভিকা, গ্রেস, ফারুক, ইমতিয়াজের নাচ মুগ্ধ করে উপস্থত দর্শকদের। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করে মুনিরা আজম ও আনিতা।
 
IMG2
 
সাইফুল আলম এবং শফিকুলের  পরিচালনায় ‌‘৭১ এর দিনগুলি’ নামের নাটিকা দর্শকদের ৭১ এর ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়। নাটিকায় অভিনয় করেন রাফা, ইমরান, আসলাম, আশিক, শান্ত, শাওন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করতে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
 
রাশিয়ায় বাংলাদেশের ছাত্রদের সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম এ বিষয়ে বলেন, মহান বিজয় দিবসের বিজয় ছিনিয়ে আনতে দীর্ঘ ৯ মাস পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রক্তাক্ত যুদ্ধ করেছে এ দেশের দামাল ছেলেরা। এ যুদ্ধ ছিলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জন্য যুদ্ধ, পরাধীনতার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ। আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি লাখ লাখ বীর শহীদের যারা তাদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে আমাদের জন্য এনে দিয়েছে স্বাধীনতা। আমরা চাই রাশিয়ার মাটিতে রাশিয়া-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো জোরদার করতে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করতে। 
 
ইত্তেফাক/ রেজা