আরএমপিতে নতুন আরও ৮টি থানা হচ্ছে

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০:৫৭
 
রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) আরও ৮টি থানা হচ্ছে। এনিয়ে আরএমপির মোট থানার সংখ্যা হবে ১২টি। আরএমপির বর্তমান চারটি এবং জেলার পবা থানাকে ভেঙে নতুন ১২টি থানা পুনর্গঠন করা হবে। নতুন থানাগুলোর জন্য ইতোমধ্যে সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। অচিরেই থানাগুলোতে কার্যক্রম শুরুর আশা করছে আরএমপি। এজন্য নগর পুলিশে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
 
বিষয়টি নিশ্চিত করে আরএমপির মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, দীর্ঘ পরিকল্পনার পর নতুন করে আটটি থানা করার সিদ্ধান্ত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় সম্প্রতি অনুমোদন হয়েছে। এখন শুধু সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকারি এই আদেশ জারির কথা রয়েছে।
 
তিনি আরো জানান, আরএমপির এখনকার থানাগুলোর মতো নতুন থানাগুলোও চলবে ভাড়া করা ভবনে। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভবন দেখা হচ্ছে। কয়েকটি ভবন থানা করার জন্য পছন্দও হয়েছে। খুব শিগগির ভবনগুলোতে থানার কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
আরএমপির মুখপাত্র অারো জানান, আরএমপির চার থানা ও পুলিশ লাইনে এখন প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ কর্মরত রয়েছেন। এখান থেকেই নতুন থানাগুলোতে জনবল সরবরাহ করা হবে। এজন্য গেল কয়েকমাসে আরএমপি থেকে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যকে অন্য কোথাও বদলি করা হয়নি। পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তারাও রয়েছেন নতুন থানায় যোগদানের অপেক্ষায়।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখন আরএমপির চার থানার এলাকা রয়েছে ২০৩ বর্গকিলোমিটার। নতুন আরও ৮ থানার কার্যক্রম শুরু হলে আরএমপির এলাকার পরিধি হবে প্রায় ৯০০ বর্গকিলোমিটার। শহর ছেড়ে গ্রামেও পৌঁছাবে মহানগর পুলিশের এলাকা। নতুন করে থানা হলেও মহানগরীর ভেতরে থাকা এখনকার ১২টি পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।
 
আরএমপি সূত্রে জানা গেছে, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী-নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার এলাকা ভেঙে হচ্ছে চন্দ্রিমা থানা। রাজপাড়া থেকে হচ্ছে কাশিয়াডাঙ্গা থানা। আর মতিহার থানা থেকে কাটাখালি ও বেলপুকুর এবং শাহমখদুম থানা থেকে হচ্ছে বিমানবন্দর থানা। এছাড়া জেলা পুলিশের পবা থানা থেকে হচ্ছে কর্ণহার ও দামকুড়া থানা। পবা উপজেলার এই নতুন দুটি থানা থাকবে মহানগর পুলিশের আওতায়। একইভাবে পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর থানাও থাকবে মহানগরের অধীনে।
 
আরএমপির কমিশনার মাহাবুবর রহমান বলেন, আরএমপি প্রতিষ্ঠার পর শহরের পরিধি বেড়েছে অনেক। এখন চার থানাকে পুরো শহর সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। প্রয়োজনের তাগিদেই নতুন থানা হচ্ছে। এগুলোর কার্যক্রম শুরুর পর রাজশাহীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভূতপূর্ব উন্নতি হবে। পাশাপাশি মানুষ আইনি সেবা পাবেন হাতের নাগালে।
 
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ১ জুলাই বোয়ালিয়া, মতিহার, রাজপাড়া ও শাহমখদুম থানা নিয়ে আরএমপির কার্যক্রম শুরু হয়। সদর দফতর, দুটি অপরাধ বিভাগ, সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ নিয়ে কাজ করছে আরএমপি। চার থানা ছাড়াও এখন আরএমপির রয়েছে ১২টি ফাঁড়ি ও তিনটি পুলিশ বক্স।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি