সিলেট-২ (ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ) আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান গত ২ এপ্রিল শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো বুধবার নির্বাচনী এলাকায় গেছেন। সেখানে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও গণফোরামের কয়েক নেতাকে নিয়ে সুধী সমাবেশও করেছেন। অন্যদিকে, দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় মোকাব্বিরকে শোকজ করতে যাচ্ছে গণফোরাম। দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেন সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার পরেই শোকজ নোটিস পাঠানো হবে।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, যেহেতু মোকাব্বির খান গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য তাই মোকাব্বির খানকে আগে শোকজ নোটিস দেওয়া হবে। এরপর তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলে আইনি পদক্ষেপ নেবে গণফোরাম। এক প্রশ্নের জবাবে সুব্রত চৌধুরী বলেন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর (মৌলভীবাজার-২) যেহেতু দলের সাধারণ সদস্য ছিলেন তাই এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ায় তাত্ক্ষণিকভাবে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম পথিক ইত্তেফাককে জানান, শোকজ নোটিস প্রস্তুত করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে চিকিত্সা শেষে ড. কামাল আগামী ১৬ এপ্রিল দেশে ফেরার পর তিনি নোটিসে স্বাক্ষর করবেন।
প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মোট আটজন বিজয়ী হন। এরমধ্যে গণফোরামের দলীয় মনোনয়নে ও বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচিত সুলতান মনসুর দল-ফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে গত ৭ মার্চ শপথ নেন। এ কারণে দল ও ফ্রন্ট থেকে তাঁকে ওইদিনই বহিষ্কার করা হয়েছে। সুলতান মনসুরের পথ ধরে গণফোরামের দলীয় মনোনয়নে ও নিজ দলের প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীকে নির্বাচিত মোকাব্বির খানও ২ এপ্রিল শপথ নেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকায় সুধী সমাবেশে মোকাব্বির খান বলেছেন, ‘আগামী পাঁচ বছর সংসদে আপনাদের সুখ-দুঃখের কথা বলব। আমার কাছে সবার অধিকার সমান। আমি সবার সংসদ সদস্য।’ ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এই সুধী সমাবেশ হয়। এতে মোকাব্বির প্রধান অতিথি ছিলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইমরান রব্বানী। বক্তব্য রাখেন বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া, ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান, সিলেট মহানগর গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য জসিম উদ্দিন জুনেদ, আফরোজ আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদাল মিয়া, ইউপি সদস্য শুকুর আলী প্রমুখ।
