রাজধানীতে মশার উপদ্রব

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ২২:০৩

ডেঙ্গু আতঙ্ক এখনও কাটে নাই। ইহার মধ্যে রাজধানীতে নূতন করিয়া কিউলেক্স মশার যে উপদ্রব দেখা দিয়াছে তাহা উদ্বেগজনক। এই মশাও কম বিপজ্জনক নহে। বাসাবাড়ি-দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সর্বত্রই তাহারা দাপাইয়া বেড়াইতেছে। কয়েল জ্বালাইয়া, ঔষধ ছিটাইয়া ও মশারি টানাইয়াও মশার উপদ্রব হইতে মুক্তি পাওয়া যাইতেছে না। কিন্তু মশক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা এখনও নির্বিকার। জনদুর্ভোগ কমাইতে তাহাদের তেমন কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হইতেছে না। বিশেষ করিয়া বেরাইদ, বাড্ডা, ভাটারা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, শ্যামপুর, মাতুয়াইল, ডেমরা, দনিয়া প্রভৃতি রাজধানীর অন্তর্ভুক্ত নূতন এলাকায় মশক নিধন সেবার অস্তিত্ব নাই বলিলেই চলে। আবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলির চিত্রও খুব একটা ভিন্ন নহে।

উল্লেখ্য, মশক নিধন খাতে ২০১৮-১৯ অর্থবত্সরের বাজেটে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের জন্য বরাদ্দ রাখা হইয়াছে ৪৭ কোটি টাকা। তন্মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জন্য ২১ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জন্য বরাদ্দ রাখা হইয়াছে ২৬ কোটি টাকা । অর্থাত্ অর্থ বরাদ্দ নিয়া কোনো সংকট নাই। সংকট আছে জনবল ও সরঞ্জামাদির ক্ষেত্রে। এইজন্য ডিএনসিসিতে জনবল রহিয়াছে ৩০০ জন। ইহার বিপরীতে মশক নিধনে ঔষধ ছিটানোর জন্য হস্তচালিত মেশিন রহিয়াছে ৫৬৭টি। দেখা যাইতেছে, মেশিন অনুযায়ী জনবল নাই। হয়ত তাহার দরকারও নাই। কিন্তু ৫৬৭টি মেশিনের মধ্যে ২৫০টিই যে অকেজো, ইহার কী হইবে? আবার ৩১৫টি ফগার মেশিনের ৬০টি ও ২২টি হুইল ব্যারোর ১২টি অকেজো। ডিএসসিসির অবস্থাও তথৈবচ। সেখানে ৩০৯ জন জনবল থাকিলেও হস্তচালিত ৫৬২টি মেশিনের ২১২টি, ৪৫২টি ফগার মেশিনের ২১২টি ও ৫১টি হুইল ব্যারোর মধ্যে ৩০টি অকেজো। অর্থাত্ দুই সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ মেশিনই নষ্ট। কিন্তু এই সরঞ্জামাদির মেরামত, উন্নয়ন ও সংখ্যা বৃদ্ধিতে কেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হইতেছে না, সেই প্রশ্নও উঠিয়াছে জনমনে।

মশক নিধন কর্মসূচির মধ্যে রহিয়াছে— বিভিন্ন এলাকার কচুরিপানা পরিষ্কার, মশার ঔষধ ছিটানো, সরঞ্জামাদি ক্রয় ইত্যাদি। এইখাতে প্রতিবত্সর সিংহভাগ অর্থ ব্যয় করা হইলেও নগরবাসী কেন কাঙ্ক্ষিত সেবা পাইতেছেন না? বর্তমানে মশার উপদ্রব এতটাই বাড়িয়াছে যে, নগরবাসীর বাসায় অবস্থান করাই কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। এই সময় স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার জন্য লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর যে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, তাহাও ব্যাহত হইতেছে মারাত্মকভাবে।  ঢাকায় মশার উত্পাত কী হারে বাড়িয়াছে তাহার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হইল— গত ২২ ফেব্রুয়ারি উড্ডয়নের আগে রানওয়ে হইতে ফিরিয়া আসে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। সেই সময় ঐ বিমানের মশা তাড়াইতে লাগিয়াছিল প্রায় দুই ঘণ্টা। আমরা এমন পরিস্থিতি আর দেখিতে চাহি না। যেহেতু শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে মশার বংশবিস্তারের মৌসুম শুরু হইয়া গিয়াছে, তাই দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে এখনই এই ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হইবে। প্রয়োজনে এই ব্যাপারে নিতে হইবে ক্র্যাশ কর্মসূচি।