নাসিরনগরে তাণ্ডবের ঘটনায় আরও একটি মামলার প্রতিবেদন প্রস্তুত

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:২৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ও বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনায় ৮ মামলার মধ্যে একটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়। এরপর এ ঘটনায় আরো একটি মামলায় পুলিশি প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে এ প্রতিবেদন দেয়ার কথা রয়েছে।

ইতিমধ্যে পুলিশ একটি মামলার প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। পুলিশ এ প্রতিবেদনে ২২৮ জনের নাম উল্লেখ করেছে।

নাসিরনগর থানার ওসি মো. আবু জাফর ইত্তেফাককে মামলার প্রথম চার্জশিট পর দ্বিতীয় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও বাকি ৬টি মামলার পুলিশ প্রতিবেদন অচিরেই পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে বলে জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

তিনি জানান, গত বছরের ৩০ অক্টোবর গৌর মন্দিরে হামলার ঘটনায় প্রথম মামলার চার্জশিট গত ৫ ডিসেম্বর আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। এ মামলার বাদী নির্মল চৌধুরী। মামলায় আড়াই থেকে তিন হাজার লোককে আসামি করা হয়।  মামলায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, একাধিক আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক মো. আবুল হাসেম, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাময়িক বরখাস্থ হওয়া চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি (বহিষ্কারের সুপারিশকৃত) ফারুক মিয়া, চাপরতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি (বহিষ্কারের সুপারিশকৃত)হাজ্বী সুরুজ আলী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হোসেন চকদার, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জামাল মিয়া, হরিপুর গ্রামের কাপ্তান মিয়া, বিল্লাল হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ ২২৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে আবুল হাসেম, এম এ হান্নান, জামাল মিয়া, ফারুক মিয়া ছাড়া বাকিরা গ্রেফতার হয়ে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। গৌর মন্দিরের হামলার ঘটনায় হওয়া মামলা ছাড়াও আরো ৬টি মামলায় পুলিশি প্রতিবেদন তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব প্রতিবেদনেও একাধিক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, রসরাজ দাস নামে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবক ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া এক ছবি ফেসবুকে পোস্ট দেন অভিযোগ তুলে গত বছরের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলা সদরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়ি ঘরে হামলা হয়। পরে ওই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও হিন্দুদের একাধিক বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় আটটি মামলা করা হয়। মামলায় ৩ হাজারেরও বেশী অজ্ঞাত লোকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাগুলো স্পর্শকাতর হওয়ায় ও ঘটনায় জড়িত হিসেবে অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে আসায় ধীরগতিতে এগোয় পুলিশ।

এ সব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের দায়ের করা আটটি মামলায় প্রায় ৩০০০ হাজার লোককে আসামি করা হয়।

নাসিরনগর থানার ওসি মো. আবু জাফর বলেন তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই একটি মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। আরও একটি মামলার চার্জশিট জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে আদালতে জমা দেয়া হবে। এছাড়াও বাকি মামলাগুলোর অভিযোগপত্রও খুব শীঘ্রই পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম(বার) ইত্তেফাককে জানান, নাসিরনগরের গঠনায় দায়েরকৃত ৮টি মামলার একটির চার্জশিট ইতিমধ্যেই আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আরো একটির চার্জশিট তৈরী হয়েছে। শিগগিরই আদালতে দাখিল করা হবে। অন্য মামলাগুলোও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে পর্যায়ক্রমে চার্জশিট দেয়া  হবে।

ইত্তেফাক/নূহু