বর্ষার কারণে ও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় নওগাঁয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ কম হয়েছে। এ কারণে গত বছরের তুলনায় জেলায় প্রায় দুইশ' মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদন কম বলে জানা গেছে।
কৃষকেরা বলছেন, কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা আগাম জাতের ও অধিক ফলনশীল সরিষা দেরিতে চাষ করেন। কিন্তু চলতি বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের (শীত জনিত) কারণে গত বছরের তুলনায় সরিষার ফুল কম হয়েছে। ফুল কম হওয়ায় ফলেরও উৎপাদন কম হবে। এতে কৃষকদের লোকসান গুণতে। তবে বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ রকম আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি সরিষায় র বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ৩৪ হাজার ২শ' ৩৮ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৬শ' ৬৪ মেট্রিকটন (গড়ে প্রতি বিঘায় গড়ে ৪ দশমিক ২ মণ) সরিষা। চলতি মৌসুমে জেলায় ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে মান্দা উপজেলায় ৪ হাজার ২০০ হেক্টর, পত্নীতলায় ৪ হাজার ৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর, সাপাহারে ২ হাজার ৯শ' ৫০ হেক্টর এবং রাণীনগরে ২ হাজার ৯৩০ হেক্টর। এছাড়া অন্যান্য উপজেলায় কমবেশি সরিষার আবাদ হয়ে থাকে। উন্নত বারি-৯, ১১, ১৪ ও ১৫, টরি-৭, হাইল্যান্ড ও সম্পদ জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, সরিষা একটি আগাম ফসল। এরপর বোরো আবাদ হয়ে থাকে। এ বছর কৃষককে সরিষা চাষে ব্যাপক সচেতন করা হয়েছে। কৃষি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। বৃষ্টির কারণে এ বছর সরিষার আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। অতি বর্ষণে সরিষার ফলন কম হওয়ার আশংকা দেখা দিলেও পরবর্তীতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, 'গত বছরের তুলনায় জেলায় প্রায় দুইশ' হেক্টর জমিতে কম চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় মাত্র ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি সরিষা চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই পরিমাণ জমিতে থেকে এ বছর জেলায় ৭শ' মেট্রিকটন ( প্রতি বিঘায় গড়ে ৪ মণ) সরিষা উৎপাদন হবে আশা করা হচ্ছে।'
ইত্তেফাক/জামান
