কেশবপুরে অবৈধভাবে ইট উত্পাদন ও ভাটা স্থাপনার কাজ অব্যাহত

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:৪৯

কেশবপুরে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে ভাটা মালিকরা অবৈধ ভাটায় ইট উত্পাদনসহ নতুন নতুন ভাটা স্থাপনার কাজ বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ২ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সকল ইটভাটা মালিকদের কাগজপত্র নিয়ে তার দপ্তরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় ১৫টি ভাটার মধ্যে মাত্র ৩ জন মালিক তাদের বৈধ কাগজপত্র জমা দেন। বাকি ভাটা মালিকরা ১ মাসের সময় নেন। এসময়ের মধ্যে শুধুমাত্র গাজী ব্রিকস উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে সকল কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। গত ২ জানুয়ারি ১ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও কোনো ভাটা মালিক তাদের বৈধ কাগজপত্র জমা দেয়নি বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে, যে কৃষকরা অবৈধ ভাটা স্থাপনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলেন ভাটা মালিকরা তাদেরকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে থানায় অভিযোগ ও সন্ত্রাসী-মাস্তান দিয়ে হয়রানি করে চলেছেন।

সরকারের নীতিমালা উপেক্ষা করে কেশবপুরে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ১৫টি ইটভাটা। এসব ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, নষ্ট করা হচ্ছে কৃষি জমি, উজাড় হচ্ছে বনভূমি। এতে ফসলহানিসহ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এরমধ্যে সাতাবাড়িয়া গ্রামের রহমান ব্রিকস ও আলম ব্রিকস এবং দোরমুটিয়া গ্রামের কেশবপুর ব্রিকস পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে গাজী ব্রিকস উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে সকল কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। অন্য ১১টি ভাটার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। প্রায় ৩শ’ বিঘা কৃষি জমিতে এসব ভাটা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে শস্য নিবিড়তা কমার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। উপজেলার বায়সা কালিবাড়ি মোড়ে ৮/১০ বছর আগে প্রায় ২৫ বিঘা কৃষি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে গোল্ড ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা। যেখানে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে রাতের আধারে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। এ ভাটা মালিক কৃষকের জমি দখল করে রেখেছেন কাঠ ও ইট।

জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী মণিরামপুর উপজেলায় গোল্ড ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা আছে তার কাগজপত্র দিয়ে কেশবপুরের এই গোল্ড ব্রিকস চালানো হচ্ছে।

এদিকে, পৌর এলাকায় কোনো ইটভাটা করার নিয়ম না থাকলেও শহরের বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় ১৫-১৬ বছর ধরে অবৈধভাবে গড়ে তুলেছেন খান ব্রিকস নামের একটি ভাটা। গত ২ বছর ধরে শহরে ভোগতী নরেন্দ্রপুর এলাকায় ৩ ফসলি জমি দখল করে জামান ব্রিকস নামের আরও একটি ইট ভাটা স্থাপনার কাজ চলাচ্ছেন। ৪/৫ বছর আগে উপজেলার বেগমপুর গ্রামের ২ ফসলি জমি জবরদখল করে গড়ে তোলা হয়েছে রিপন ব্রিকস। ২ বছর ধরে সাতবাড়িয়া বাজারের ১০০ গজ দূরে ঘন বসতিপূর্ণ এলাকার ৩ ফসলি কৃষি জমি দখল করে সুপার ব্রিকস নামে একটি ভাটা স্থাপনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগরহাটি গ্রামে কাগজপত্র ছাড়াই চলছে প্রাইম ব্রিকস। এছাড়া সন্ন্যাসগাছা গ্রামের বিবি ব্রিকস-১ ও বিবি ব্রিকস-২ নামের দুটি ইট ভাটায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ইট পোড়ানো হচ্ছে। এভাটা ৩টি প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়ে বছরের পর বছর ইট উত্পাদন ও বিক্রি করে চলেছেন। এছাড়া রিপন ব্রিকসের মালিক উপজেলার বারুইহাটি মোড়ে শত শত ফলদ বৃক্ষ নিধন করে রোমান ব্রিকস নামে আরও একটি ভাটা স্থাপনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত বছরের নভেম্বর থেকে এসব ভাটা মালিকরা পুরোদমে ভাটা স্থাপনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভাটা মালিকরা বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে এনে ইট তৈরির জন্যে ঢিবি করে রেখেছেন এসব ভাটাগুলোতে। এ সমস্ত অবৈধ ভাটা স্থাপনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ফুঁসে উঠেছেন এলাকার কৃষকরা। তারা প্রতিনিয়ত কেশবপুর শহরে ভাটার বিরুদ্ধে মিছিল ও মানববন্ধন করছে।

যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপনের কারণে গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাগজপত্রসহ এসব ভাটা মালিকদের তার কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এরমধ্যে মাত্র ৩ জন ভাটা মালিক তাদের বৈধ কাগজপত্র জমা দেন। বাকি ভাটা মালিকগণ ১ মাসের সময় নেন। গত ২ জানুয়ারি অবৈধ ভাটা মালিকদের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও অদ্যাবধি তারা বৈধ কাগজপত্র জমা না দিয়ে ভাটা পরিচালনার জন্যে প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে দেন দরবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে সমস্ত ভাটা মালিক তাদের বৈধ কাগজপত্র জমা দেননি তাদের তালিকা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনিই প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে অবৈধ ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/নূহু