‘নব আনন্দ বাজুক প্রাণে’—পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে, নতুন বছরের আগমনী বার্তা নিয়ে বাঙালি মেতে ওঠে যেমন বাংলা নববর্ষের পহেলা বৈশাখের বৈশাখী উত্সবে, তেমনিভাবে চৈত্রসংক্রান্তি হলো ঋতুরাজ বসন্তকে বিদায় জানানোর উত্সব। সংস্কৃত শব্দ ‘চক্র’ থেকে ‘চড়ক’ শব্দটি এসেছে। এর অর্থ বর্ষচক্র শেষ করে বছরের সমাপ্তি ঘোষণা।
চৈত্রসংক্রান্তি একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী লোক উত্সব। চৈত্র মাসের শেষদিনকেই বলা হয় চৈত্রসংক্রান্তি। চৈত্রসংক্রান্তির প্রধান উত্সব চড়ক। লোকউত্সব হিসেবে চড়কপূজা বেশ পরিচিত। এটি চৈত্রসংক্রান্তির দিনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। চড়ক উপলক্ষে যে আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়ে থাকে তা বিভিন্ন এলাকায় গাজন, গম্ভীরাপূজা বা নীলপূজা নামে পরিচিত। চৈত্রসংক্রান্তির আগের দিন নীলচণ্ডিকা বা নীলপরমেশ্বরীর পূজা হয় আর পরদিন অনুষ্ঠিত হয় চড়কপূজা। বাংলা পুরাতন বর্ষ ও চৈত্র মাসের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার মধ্য দিয়ে চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরে বিভিন্ন সমপ্রদায়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে চলে নানা অনুষ্ঠান ও উত্সবের আয়োজন। চড়ক পূজা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আমাদের দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সমপ্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উত্সব। আর সনাতন ধর্মাব-লম্বীদের দেবতা শিবের গাজন এই উত্সবের একটি অঙ্গ। এই উত্সবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে মেলা বসে যা চড়ক সংক্রান্তির মেলা নামে অভিহিত। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন জায়গায় চড়ক পূজার পাশাপাশি মেলা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। মেলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি হতে দেখা যায়—কাঠ ও মাটির তৈরি নানা ধরনের জিনিস, বাঁশ, বেত, প্লাস্টিক ও ধাতুর তৈরি তৈজসপত্র, পুতুল, খেলনা, ঘুড়ি, হাঁড়ি-পাতিল, বাঁশি, কাঁসা-পিতলের বাসন-কোসন, দই, মুড়ি, মুড়কি, নাড়ু প্রভৃতি।
