১৪ উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিত্সক ও সরঞ্জাম সংকট

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪৬

চট্টগ্রামের উপজেলা

পর্যায়ে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিত্সা সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবলের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। কোনো কোনো হাসপাতালে যন্ত্রপাতি থাকলে টেকনিশিয়ান নেই, আবার কোথাও টেকনিশিয়ান থাকলে যন্ত্রপাতি নষ্ট। উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিত্সক নেই। গত ৭/৮ বছর ধরে উপজেলার প্রতিটি হাসপাতালে এই সমস্যা বিরাজ করছে। সদর হাসপাতালে চিকিত্সা পেলেও রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নিয়ে রোগীদের ভীষণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনেক যন্ত্রপাতি অচল। আবার টেকনিশিয়ানসহ অন্যান্য জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। নষ্ট চিকিত্সা সরঞ্জাম ও জনবলসহ যেসব সমস্যা রয়েছে তার তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। আমরা তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। তালিকা পাওয়ার পর মেরামত অথবা নতুন যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেবে মন্ত্রণালয়। নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামতে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায় না।

সন্দীপে ৩১ শয্যার সদর হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, অ্যানেস্থেশিয়া মেশিন, অটো-অ্যানালাইজার মেশিন থাকলেও তা চালু নেই। এসব পরিচালনা করার জনবলও নেই। আর চিকিত্সকের অনুমোদিত ৩২টি পদের মধ্যে ছয়জন চিকিত্সক কর্মরত রয়েছেন। কনসালটেন্টের সব পদই শূন্য। গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় প্রসূতিদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুল করিম  বলেন, শূন্য পদে চিকিত্সক নিয়োগ দিলে দ্বীপাঞ্চলের মানুষের চিকিত্সা লাভে সহায়ক হবে। রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি ও টেকনিশিয়ান না থাকায় রোগী এসব সেবা পাচ্ছে না। গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় প্রসূতিরা জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সীতাকুন্ড উপজেলা হাসপাতালেও এক্স-রে মেশিনটি গত আট বছর ধরে অচল। এটি চালানোর রেডিওগ্রাফার নেই। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও অ্যানেস্থেশিয়া মেশিন অচল। ৩১ জনের মধ্যে চিকিত্সক কর্মরত আছেন ১৬ জন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল মজিদ ওসমানী বলেন, অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অচল। দক্ষ জনবল ও চিকিত্সক স্বল্পতায় চিকিত্সাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত সাত বছর ধরে এক্স—রে মেশিন নষ্ট ও রেডিওগ্রাফার নেই। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও সনোলজিস্ট নেই। অ্যানেস্থেশিয়া মেশিন নষ্ট। বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি গত দুই বছর ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এটি পরিচালনার জন্য সনোলজিস্ট না থাকায় মেশিনটি বসানো যাচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুল আজাদ বলেন, আমাদের মেডিক্যাল অফিসারের স্বল্পতা রয়েছে। যার কারণে রোগীদের চিকিত্সা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে মেডিক্যাল অফিসার দেওয়া যাচ্ছে না। রোগ নির্ণয়ের এক্স-রে মেশিনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির সুবিধাও পাচ্ছে না রোগীরা।