স্পোর্টস রিপোর্টার
বিশ্বকাপ শুরু হতে যখন দুই মাসেরও কম সময় বাকি তখনই কোচ পাল্টালো ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই)। সংস্থাটির নবনিযুক্ত সভাপতি রিকি স্কেরিট নিশ্চিত করেছেন যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রিচার্ড পাইবাসের অধ্যায়ের এখানেই ইতি। তাঁর জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন ফ্লয়েড রেইফার। এই কোচের অধীনেই বিশ্বকাপ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ফ্লয়েড রেইফারের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গ উঠতেই বাংলাদেশের নাম আসতে বাধ্য। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়েছিল, তখন বোর্ডের সঙ্গে গণ্ডগোল বাঁধিয়ে শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা খেলতে অস্বীকৃতি জানান। কোনোক্রমে তৃতীয় শ্রেণির একটা দল নিয়ে খেলতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন এই রেইফার। সেবারই শেষবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন রেইফার। সেই সিরিজে টেস্ট ও ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হলেও টি-টোয়েন্টি ম্যাচটায় জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা।
সবমিলিয়ে ১৯৯৭ থেকে ২০০৯ অবধি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। এর মধ্যে ছয়টি টেস্ট, আটটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। ডেভ ক্যামেরনের ছয় বছরের মেয়াদ শেষে স্কেরিট দায়িত্ব নেওয়ার পরই বুঝিয়ে দিলেন যে, তিনি দেশের স্থানীয় কোচদের ওপরই ভরসা রাখতে চান তিনি। রিকি স্কেরিট মনে করেন এই সিদ্ধান্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের হারানো অবস্থান ফিরিয়ে দেবে। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের কৌশলগত সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি এটা আমাদের ক্রিকেটের সংস্কৃতির হারানোর রং ফিরিয়ে আনবে। আশা করি আমরা সেই অবস্থানে ফিরে যাব, যেখানে আমরা আগে ছিলাম।’
গেল জানুয়ারিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন পাইবাস। তিনি ছিলেন মিডলসেক্সের কোচের দায়িত্ব পেয়ে চলে যাওয়া স্টুয়ার্ট লর বদলি। পাইবাসের অধীনে পারফরম্যান্সে মন্দ নয় ক্যারিবিয়ানদের। ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হারিয়েছে তারা। ওয়ানডেতে ২-২ ব্যবধানে ড্র করে বিশ্বকাপের আগে এখন বেশ চাঙ্গা উইন্ডিজ দল।
শুধু পাইবাস নয়, সহকারী কোচ মুশতাক আহমেদের মেয়াদও আর পারছে না। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তিনি এই দায়িত্ব পান। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সঙ্গে পাইবাস আছেন সেই ২০১৩ সাল থেকে। প্রথম তিন বছর তিনি বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালক পদে কাজ করেন। এরপর মেয়াদ না বাড়িয়ে তিনি চলে যান। এরপর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে ফিরিয়ে এনে হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টরের কাজ দেওয়া হয়। সেখান থেকেই এই বছরের শুরুতে তিনি পান প্রধান কোচের দায়িত্ব।
পরিচালক হিসেবে পাইবাস খানিকটা বিতর্কিতও ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা পাওয়ার জন্য ক্যারিবিয়ানদের ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণকে বাধ্যতামূলক করেন তিনি। ক্যারিবিয়ানদের সিনিয়র ক্রিকেটাররা বরাবরই বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকেন। ফলে, এই নিয়মের ফলে, পাইবাসের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন তারা।
