খুলনায় স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানি এবং প্রতিবাদ করায় তার ভাইকে পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে বুধবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সজীব খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন এএসপি হেডকোয়ার্টার ওয়াসি ফিরোজ ও বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক মামুন। ইতোমধ্যে কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
এদিকে, ঘটনার পর গত মঙ্গলবার তাৎক্ষণিকভাবে বটিয়াঘাটা উপজেলার বাইনতলা ফাঁড়ির ৫ সদস্যকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। এ ছাড়া ওইদিনই ফাঁড়ির বাকি ৭ সদস্যকেও প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে রাতেই ফাঁড়িতে ১২ সদস্যের নতুন ফোর্স নিযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ফাঁড়ি মনিটরিংয়ের জন্য বটিয়াঘাটা থানার দুজন কর্মকর্তাকেও দায়িত্ব দেয়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবার স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানি এবং প্রতিবাদ করায় তার ভাইকে পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করে ওই ক্যাম্পের ৫ পুলিশ সদস্য।
খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সজীব খান বলেন, প্রাথমিকভাবে তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীসহ সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বাইনতলা খারাবাদ কলেজিয়েট স্কুলে যাওয়ার পথে কনস্টেবল নাঈম দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর ভাই তরিকুল প্রতিবাদ জানালে পুলিশ কনস্টেবল নাঈম তাকে ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে আটকে রাখে। এ খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ফাঁড়িতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা ফাঁড়ি ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক মামুন ও স্থানীয় আমীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গোলদার মিলন সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত ৫ পুলিশ কনস্টেবল নাঈম, মামুন, রিয়াজ, আবির ও নায়েব জাহিদকে ক্লোজ করা হয়।
ইত্তেফাক/ইউবি
