লোকসভা নির্বাচনে ভোটের ইস্যুগুলো কী?

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২১

 

 

ভারতে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে লোকসভা নির্বাচন। সংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম এই গণতন্ত্রের দেশে সাত পর্বের ম্যারাথন ভোটগ্রহণ, আর ৯০ কোটিরও বেশি ভোটারের রায়ে স্থির হতে চলেছে— কোন দল বা জোট ভারতে গড়বে পরবর্তী সরকার। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে এ নির্বাচনে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারছে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো?

পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতের বিমান হামলা, নোট বাতিল বা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার মতো বিষয়গুলোই বা কতটা প্রভাব ফেলছে নির্বাচনী প্রচারণায়? ভারতের নানা প্রান্তে ইতোমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে বিজেপির ‘হর হর মোদী’ স্লে­াগান— কোথাও আবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে জনতা গলা মেলাচ্ছে ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ স্লে­াগানে। রাজনীতির আগুনের আঁচ পোহাচ্ছে কাশ্মির থেকে কন্যাকুমারিকা। কাশ্মিরে জঙ্গি হামলার জবাব কীভাবে দেওয়া উচিত, অর্থনীতির হাল কী দাঁড়াচ্ছে বা এ দেশে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকতে পারবে কি না— চর্চায় এখন এই বিষয়গুলোই। দিল্লির বাসিন্দা হরিশ মেহতা বলছিলেন, ‘কাশ্মিরে প্রায় রোজ এত লোক, এত সেনা মারা যায় কিন্তু এই প্রথম মনে হলো দেশে একজন প্রধানমন্ত্রী অছেন!’ ‘যিনি ইটের জবাব পাটকেল দিয়ে দিতে জানেন, শত্রুকে বুঝিয়ে দিতে পারেন ভারতের সরকার মোটেও দুর্বল নয়!’

বালাকোটে হামলা নিয়ে তিনি যেমন উচ্ছ্বসিত, দিল্লির কর্মজীবী নারীদের কাছে আবার বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো রাস্তাঘাটে রোজকার সুরক্ষা, যেদিকে নজর দেয় না কোনো দলই। তথ্য-প্রযুক্তি কর্মী নেহার কথায়, ‘আজও মেয়েদেরই তো সবচেয়ে বেশি আক্রমণের নিশানা করা হয়।’ ‘মেয়েদের আজও কোনো সুরক্ষা নেই— দেশে তো সবচেয়ে বড় ইস্যু এটাই!’  খবর বিবিসি বাংলার

কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বলেন, ‘সব ধর্ম, সব জাতপাতের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে চলাটাই ছিল ভারতের আবহমান স্পিরিট।’ ‘কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত পাঁচ বছরে ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ কিংবা আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে দেশে যে পরিমাণ বৈষম্য হয়েছে তা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।’ ‘রাহুল গান্ধীও তাই বারবার বলছেন এবারের ভোটই স্থির করে দেবে ভারতের যে প্রগতিশীল, উদার মুখটাকে আমরা এতকাল ধরে চিনতাম সেটাকে ফিরে পাওয়া যাবে কি না!’ ক্ষমতাসীন বিজেপি আবার দাবি করছে, এই নির্বাচন হলো নরেন্দ্র মোদির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভারতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরের ধাপে উত্তীর্ণ করার লড়াই— দেশে এখন কোনো জোড়াতালি দেওয়া সরকার কিছুতেই কাম্য নয়! বিজেপির পলিসি রিসার্চ সেলের অনির্বাণ গাঙ্গুলির কথায়, ‘সবাই বুঝছে যে ভারতবর্ষ এখন এমন একটা পর্যায়ে— যেখান থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিরাট একটা সুযোগ এসেছে।’ ‘সেই যাকে আমরা বাংলায় বলতাম, ‘জগত্সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে’, এখন হলো সেই পরিস্থিতি।’ ‘এই পরিস্থিতিতে আমরা কি একটা নড়বড়ে সরকার চাই, যার নেতার দাবিদার অসংখ্য এবং দিশার কোনো ঠিকঠিকানা নেই?’ ‘না কি আমরা এমন সরকার চাইব যার নেতা কে একেবারে পরিষ্কার, যিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করবেন?’