বৈরী আবহাওয়ায় দুশ্চিন্তায় তালার বোরো চাষিরা

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৮

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

তালা উপজেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। উপজেলার বিলগুলোতে যে দিকে চোখ যায় শুধু ধান আর ধান। সব এলাকায় সবুজ ধানের শীষ দোল খাচ্ছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জমির ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা দিন গুণছে। গত কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড় আর বৃষ্টিতে কৃষকের ক্ষেতের ধানের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের সকল পরিচর্যা শেষে ধান তোলার সময় শিলাবৃষ্টি কৃষকের হাসি ম্লান করে দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৯ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় পাঁচ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। এ বছর উপজেলায় জলাবদ্ধতা না থাকায় উপজেলার ধানদিয়া, নগরঘাটা, সরুলিয়া, কুমিরা, খলিষখালী, তেঁতুলিয়া তালা, জালালপুর, মাগুরা, খলিলনগর, খেশরাসহ উপজেলায় সর্বত্রই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে।

তালা উপজেলার নলতা গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া ও প্রকৃতির কারণে এ বছর আমাদের ব্লকে গতবারের চেয়ে ধান ভালো বোঝা যাচ্ছে। এ বছর আমার ব্লকে ব্রি-ধান ২৮ বেশ ফলেছে। আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় বেশ দুশ্চিন্তায় আছি, ধান ঘরে না ওঠা পর্যন্ত চিন্তার শেষ নেই।

অপরদিকে গোপালপুর গ্রামের কৃষক গণেশ রায় জানান, গত বছরের তুলনায় ধান ভালো না তবে রোগবালাই কম আছে। হাজরাকাটি গ্রামের আফজাল সরদার জানান, এ বছর আমাদের এলাকায় ধানের ফলন খুব ভালো দেখা যাচ্ছে, যদি এভাবে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে বাম্পার ফলন হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে অনেক এলাকায় চাষাবাদ হয়েছে। বৃষ্টি ও ঝড়ে কিছু কিছু এলাকায় ধানের সামান্য ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করায় এবার রোগবালাই কিছুটা কম। আগাম পরামর্শ দেওয়ায় ব্লাস্ট রোগ তেমন চোখে পড়েনি। এ বছর উপজেলায় ব্রি-ধান ২৮ বেশি পরিমাণ জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। তাছাড়া ৬৭, বিনা-১০ ও কিছু এলাকায় লবণ সহিষ্ণু ধান চাষাবাদ হয়েছে।