পৌলি নদী থেকে বালু উত্তোলন

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৯

সড়ক রেলসেতু ও শহররক্ষা বাঁধ নিয়ে শঙ্কা!কালিহাতী (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইলের পৌলি নদীর পৌলিতে সড়ক ও রেলসেতুর দুই পাশ এবং নদীর শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষা মৌসুমে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলি নদীর ওপর মহাসড়ক ও রেলসেতুর পূর্ব-দক্ষিণ পাশেই টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের শুরু। পৌলি সেতু থেকে মহেলা, আগবেথৈর, পাছবেথৈর, শালিনা, বার্থা হয়ে করটিয়া পর্যন্ত এ বাঁধের দৈর্ঘ্য।  সড়ক ও রেলসেতুর পূর্ব-পশ্চিম এবং শহর রক্ষা বাঁধের পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠেছে বেশ কয়েকটি অবৈধ বালুঘাট। প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে একটি মহল স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে ৫-৬টি স্পটে ভেকু বসিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এসব ঘাট থেকে প্রতিদিন শ’ শ’ বালুভর্তি ট্রাক যাতায়াত করায় শহর রক্ষা বাঁধটি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শহর রক্ষা বাঁধটি আশ-পাশের তিন গ্রামের মানুষের শহরে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক। সেতুর উভয় পাশ থেকে বালু উত্তোলন করায় একদিকে সড়ক ও রেলসেতু, অন্যদিকে টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ২০০০ সালে কম্পার্টমেন্টালাইজেশন পাইলট প্রজেক্টের (সিপিপি) আওতায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ নির্মিত হওয়ার পর বিগত ১৮ বছরে বড় ধরনের কোনো মেরামতের কাজ না হওয়ায় ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বাঁধের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাঁধের পূর্বাংশ ভেঙে গেলে টাঙ্গাইল শহর, গালা, ঘারিন্দা, করটিয়া ইউনিয়নসহ বাসাইল উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর, ফসলি জমি, সরকারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মাদ্রাসা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আইয়ুব আলী বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত এসে অভিযান চালায় দু’একদিন বালুঘাট বন্ধ থাকে। তারপর আবার দু’একদিন পর থেকেই বালু উত্তোলন শুরু হয়। যারা বালুঘাটের ব্যবসা করে তারা খুবই প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস আমাদের নেই। তাই শত সমস্যা হলেও আমাদের করার কিছুই নেই।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দেবনাথ জানান, তারা মাঝে-মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন। ইতোমধ্যে কয়েক দফায় বাংলা ড্রেজার ও ভেকু ধ্বংস করা হয়েছে। যে কোনো সময় ওই এলাকায় আবারো ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পৌলি নদীর বিষয়টি আমি জানার পর কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি বিষয়টি দেখার জন্য। টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।