পারিশ্রমিক নিয়ে ক্রিকেটারদের অসন্তোষ

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:১০
একটা বছর যায়, নতুন বছর আসে। সবক্ষেত্রের পেশাজীবীই আশা করেন তার পারিশ্রমিক বাড়বে। দেশের সিংহভাগ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে অবশ্য এবার ব্যতিক্রম হয়েছে। গত মৌসুমের তুলনায় ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে আসন্ন আসরে উল্লেখযোগ্য হারে পারিশ্রমিক কমে গেছে ক্রিকেটারদের। সেবার লিগে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দলবদল হয়েছিল ক্রিকেটারদের।
 
আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে চলা প্রিমিয়ার লিগে ক্রিকেটারদের দলবদল হবে প্লেয়ার বাই চয়েজ পদ্ধতিতে। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে পারিশ্রমিকসহ ক্রিকেটারদের প্লেয়ার্স ড্রাফট তালিকা। যেখানে পারিশ্রমিক নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে ক্রিকেটাদের মাঝে।
 
প্রিমিয়ার লিগের নিয়ন্ত্রক ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান কাজী ইনাম গতকাল বলেছেন, কিছু খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে কম হতে পারে। চিহ্নিত কয়েকজনের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক পুনর্বিবেচনা হতেও পারে।
 
নির্বাচকরাই তালিকা করেছেন জানিয়ে গতকাল কাজী ইনাম বলেছেন, ‘নির্বাচকরাই কিন্তু পারিশ্রমিকটা নির্ধারণ করেছে। তারা চেষ্টা করেছে গত বছর যারা যে রকম পেয়েছে মোটামুটি সেটার কাছাকাছি রাখার জন্য। কিছু প্লেয়ারের হয়তোবা কম হয়েও থাকতে পারে। সেগুলো চিহ্নিত করে অনেক প্লেয়ারের কিন্তু বাড়ানো হয়েছে।’
 
যদিও নির্বাচক কমিটির সূত্র জানিয়েছে, তালিকা তৈরি করলেও পারিশ্রমিক তারা নির্ধারণ করেননি। সেটা করেছে সিসিডিএম। সূত্র জানায়, পারিশ্রমিক নির্ধারণ করেছে সিসিডিএমই। নির্বাচকরা শুধু প্লেয়ারদের তালিকা ঠিক করে দিয়েছেন। সবার নাম আছে কি না তা ঠিক করেছেন।
 
ড্রাফট তালিকায় ‘সি’ গ্রেডে রয়েছেন জাতীয় দলের এক সময়কার নিয়মিত সদস্য বাঁহাতি পেসার সৈয়দ রাসেল। সবচেয়ে কম সাড়ে তিন লাখ টাকা পারিশ্রমিকের গ্রেডে নিজের নাম দেখে যারপরনাই হতাশ তিনি। নির্বাচকদের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে সৈয়দ রাসেল নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘নির্বাচকদের বলছি, মনটা আরেকটু বড় করুন। টেস্ট খেলা দুজন ক্রিকেটারকে এভাবে অপমান না করলেও পারতেন। আপনারাই বলেন, শ্রদ্ধা করতে, কিন্তু নিজেরাই শ্রদ্ধা করতে শিখলেন না। রেকর্ড ঘাটুন। পারফর্ম করে ক্রিকেট খেলি, চেহারা দেখিয়ে নয়।’
 
এ প্রসঙ্গে  সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম বলেছেন, ‘কিছু কিন্তু ইতোমধ্যে পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। সে বিষয়ে আমি নির্বাচকদের সঙ্গে আবার কথা বলে দেখতে পারি।’
 
যদিও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বিষয়ে চুপ তাদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। সিনিয়র ক্রিকেটার তুষার ইমরান জানিয়েছেন, কিছু আপত্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ জানুয়ারি ক্লাবগুলোর সঙ্গে সিসিডিএমের মিটিংয়ে কারো কারো পারিশ্রমিক বাড়তে পারে।
 
তিনি বলেছেন, ‘কিছু কিছু প্লেয়ারের কম হয়ে গেছে। এটা আপত্তি দেওয়া হয়েছে। উনারা বলতেছে যে, ঠিক আছে এগুলো দেখবো আমরা। মনে হয় ১৪ জানুয়ারি একটা মিটিং আছে। সিসিডিএমের সঙ্গে ক্লাব কর্মকর্তাদের। ওখানে মনে হয় একটা অঙ্ক বাড়তে পারে। শুনছি, বাকিটা দেখা যাক।’
 
অভিজ্ঞ এ ক্রিকেটার জানিয়েছেন, পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছে গত বছরের আগের মৌসুমের প্লেয়ার্স ড্রাফটের তালিকা দেখে। সর্বশেষ বছরের পারিশ্রমিক বিবেচনায় আসেনি। তুষার ইমরান বলেন, ‘আমরা একটা তালিকা দিয়েছিলাম যে, গত বছর যে পেমেন্ট ছিল ওইটা থেকে বাড়ানোর জন্য। প্লেয়ারদের থেকেই আসছিল, গত বছর কে কত চুক্তি করেছিল। যাতে ১০ ভাগ বা ২০ ভাগ বাড়বে। বোর্ড গত বছরের আগের মৌসুমে যে প্লেয়ার বাই চয়েজ ছিল, ওইটা থেকে বাড়ানো হয়েছে বলেছে। গত আসরের পেমেন্টের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নাই।’
 
ইত্তেফাক/কেআই