বৈরি আবহাওয়ার কারণে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদী থেকে মাছ ধরতে না পারায় হতদরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবারের লোকজন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।
উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে অসংখ্য পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙনের শিকার হয়ে অনেকে মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে এলাকা ছেড়ে শহর কিংবা অন্যত্র চলে গেছে। অনেক পরিবারের লোকজন নাড়ীর টানে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বাঁধে আশ্রিত অধিকাংশ পরিবারের লোকজন যমুনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।
কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশার বৃষ্টি ঝরছে। কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বের হচ্ছে না। টানা শৈত্যপ্রবাহে যমুনা নদীতে মাছ শিকারিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। সূর্যের আলোবিহীন দিন আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাত। মাছ শিকারিদের কষ্টের যেন শেষ নেই। সারা রাত নদীর বুকে নৌকা বয়ে তারা জাল দিয়ে বিভিন্ন জাতের মাছ ধরে। সকাল হওয়ার সাথে ওই মাছ নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি আড়তে নিয়ে যায়। মাছ বিক্রির টাকায় চলে ওদের সংসার।
কয়েক দিনের প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর রাতে ঘন কুয়াশার কারণে তারা মাছ ধরতে পারছে না। কুয়াশার কারণে রাতের বেলায় নদীতে নৌকা চালানো যায় না। তাই যমুনা নদীর ঘাটে নৌকা রেখে তারা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। উপার্জনের অন্য কোন পথ না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে আড়তদারের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছে। দিনের উষ্ণতা বাড়লে নদীতে মাছ ধরে ওই ঋণ পরিশোধ করবে। এমন শর্তে মাছ শিকারিরা আড়তদারদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিচ্ছে।
মৎস্যশিকারি বানিয়াজান গ্রামের আব্দুল বাছেদ, বানিয়াজানের হিরালাল হাওয়ালদার, ভাণ্ডারবাড়ির মেছের আলী জানায়, অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে তারা কয়েক দিন ধরে নদী থেকে মাছ ধরতে পারছে না। ফলে তারা খুবই অভাবে পড়েছে। ঋণের টাকায় সংসার চালাতে হচ্ছে। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা অতিকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
উপজেলার গোসাইবাড়ি বাজারের পাইকারি আড়তদার প্রতেন কুমার জানায়, বৈরি আবহাওয়ার কারণে নদী থেকে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাজারে মাছের আমদানি কমে গেছে।
ইত্তেফাক/জামান
