বৈশাখ উদযাপনে প্রাণের ফোয়ারা

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৬

বৈশাখ উদযাপনে চারিদিকে প্রাণের ফোয়ারা। নগরে গ্রামীণ আবহ। পহেলা বৈশাখ আসতে এখনো একদিন বাকি। তার অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে বৈশাখী উত্সব উদযাপন। আজ জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে শুরু হবে বৈশাখী মেলা। আরো দশ দিন আগে থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। শাড়ি, পাঞ্জাবি, অলঙ্কার ও লোকজ পণ্যের নানা পণ্য নিয়ে চলছে মেলা। দৃক গ্যালারিতে শেষ না হতেই ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে বসেছে মেলা। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে বর্ণিল পসরার সমারোহে বৈশাখী মেলা। যা নগর জীবনে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য তুলে ধরছে। পরিচিত করিয়ে দিচ্ছে বাংলার লোকজ ধারাকে। কদিন আগেই গুলশানের কানাডিয়ান স্কুলে বসেছিল বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মাস্টারমাইন্ড স্কুল : গতকাল ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলের আয়োজনে বসেছিল বৈশাখী উত্সব। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে গান, নাচ, কবিতা ও আবৃত্তি। এর পাশাপাশি বৈশাখী মেলা। গ্রামীণ আবহ তৈরি করে সেখানে বসানো হয় মেলা। ছিল পিঠাপুলিসহ বাঙালি খাবারের রকমারি আয়োজন।

শিল্পকলায় নওরোজ ও নববর্ষ : শিল্পকলা একাডেমি ও ইরানি কালচারাল সেন্টারের যৌথ আয়োজনে ইরানের নববর্ষ ‘নওরোজ’ এবং বাংলার নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন করা হয়। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ইরানের ভার্সি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ড. কাজেম কাহদুয়ী এবং নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

বক্তারা বলেন, নওরোজ ইরানিদের সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ উত্সবগুলোর অন্যতম, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে ইরানিদের একে অপরের কাছে টেনেছে। ইরানি জনগণের সংস্কৃতিতে নওরোজ বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান ও নিদর্শনে পরিপূর্ণ এবং এটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও জাতীয় উত্সব হিসেবেও বিবেচিত। ইরানিদের মাধ্যমেই নওরোজ উত্সব উদ্যাপনের প্রচলন হলেও এ উত্সব আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ইরানের পাশাপাশি এ উত্সব আজ মধ্য এশিয়া থেকে শুরু করে তুরস্ক, ইরাক, ভারত উপমহাদেশ এবং উত্তর আফ্রিকাসহ বিশ্বের আরো অনেক অঞ্চলে তাদের নিজস্ব আচার পদ্ধতিতে উদ্যাপিত হয়ে থাকে।

বক্তাগণ আরো বলেন, নওরোজ ও পহেলা বৈশাখের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। বেশ কাছাকাছি সময়ের ব্যবধানে ইরান ও বাংলাদেশে বসন্তকালের আগমন ঘটে থাকে। আমাদের দেশেও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে গ্রামেগঞ্জে মেলা হয়ে থাকে। মেলায় পসরা সাজানো হয় নানা ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে। গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা খেলাধুলার আয়োজনও থাকে এসব মেলায়। বিগত কয়েক দশক যাবত্ এটি নগর জীবনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীবৃন্দ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাংস্কৃতিক দল।