গোপালগঞ্জে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে হাসপাতাল থেকে স্কুলছাত্রী অপহরণ

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৫০

নারী ও শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন থামছেই না। গতকাল শুক্রবারও বিভিন্ন স্থানে তিন স্কুলছাত্রীসহ পাঁচজনকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে, গোপালগঞ্জে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে হাসপাতাল থেকে এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে। পাবনার চাটমোহরে এক শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বরগুনার পাথরঘাটায় মোবাইলে প্রেমের ফাঁদ পেতে এক স্কুলছাত্রীকে দলবেঁধে এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে এক নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, লম্পট গৃহশিক্ষক ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার হুমকি দিচ্ছে পরিবারকে। ওই ছাত্রী গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাতিকাটা গ্রামের উত্তম বিশ্বাসের ছেলে ধর্ষক মনোজ কুমার বিশ্বাসকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অপর আসামি মনোজকে রক্ষা করতে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো দুর্গপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার হাসান শেখের ভাই শাহজাহান শেখ। গত বুধবার রাতে থানায় মামলা করেন শেখ মণি জ্ঞানেন্দ্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র দত্ত। ধর্ষকের পরিবার ও তার ঢাল হয়ে দাঁড়ানো মেম্বারের হুমকিতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা। ইউপি মেম্বারের ভাই শাহজাহান শেখ হাসপাতাল থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার হাসান শেখ বলেন, মনোজকে পালানোর সহায়তা করিনি। আমার ভাই শাহজাহান তাকে নিয়ে পালিয়েছে। হাসপাতাল থেকে ওই ছাত্রীকে কে অপহরণ করেছে তা জানা নেই। ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে আমি কোনো ভয়ভীতি দেইনি।প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র দত্ত বলেন, ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে মনোজ গত বছরের ১ নভেম্বর প্রথম ধর্ষণ করে। গত ৯ এপ্রিল স্কুলে এসে ওই ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ সময় তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে ইউপি চেয়ারম্যান স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সামনে ওই ছাত্রী ধর্ষণের বর্ণনা দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বকুল বলেন, হাসপাতাল থেকে ওই ছাত্রীকে কৌশলে শাহজাহানসহ ৩/৪ জন অপহরণ করে নেয়। এ কারণে ওই  ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা হয়নি। ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতেই ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হতে পারে। সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, মোবাইলে পরিচয় গোপন করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বাড়ি থেকে দূরে বনে নিয়ে সদর ইউনিয়নের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে ওই ছাত্রীকে। সে বাবা-মা মারা যাওয়ার পর ভাইয়ের কাছে থেকেই পড়ালেখা করছিল।

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, চাটমোহরে ধর্ষণের পর ছয় বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার। এ ব্যাপারে গতকাল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা। গত ১৮ মার্চ তাকে ধর্ষণ করে কোমর আলীর ছেলে চাঁদ আলী। ২০ মার্চ সকালে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর পুলিশ মামলা গ্রহণ করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত চাঁদ আলীকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষায় নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে।

চাটখিল ও সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, সোনাইমুড়িতে স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীকে অপহরণ করে ফের গণধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ উপজেলা বারগাঁও গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ধর্ষক আমিনুল ইসলাম মিন্টু (৩২), উজির আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন বাচ্চুকে (৩০) গ্রেফতার করে গতকাল কারাগারে পাঠিয়েছে। গ্রেফতার বাচ্চু জানান, ওই নারীকে অপহরণ করে রাতভর তারা চারজন ধর্ষণ করে। ধর্ষক অন্য দুজন হলেন একই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আলাউদ্দিন (২৮) ও হানিফের ছেলে নুরনবী তারেক (৩০)। ধর্ষণের পর ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। গ্রেফতারদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বারগাঁও ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের কল্লাপড়ার একটি ডোবা থেকে বুধবার রাতে অচেতন অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, নাঙ্গলকোটে তালাকপ্রাপ্ত এক সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষক নুরুজ্জামান রাজু উপজেলার আদ্রা উত্তর ইউপির মেরকট গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই গ্রামের উত্তর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে থানায় দু’জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।