সুদানে কারফিউ উপেক্ষা করে ব্যাপক বিক্ষোভ

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৫০

সুদানে এবার কারফিউ প্রত্যাখান করে সেনা অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর ক্ষমতা ধরে রাখার ইচ্ছা নেই এবং বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অঙ্গীকার করলেও বিক্ষোভকারীরা মানছে না। গতকাল হাজার হাজার মানুষ রাজধানীর রাস্তায় নেমে আসে। খবর রয়টার্স ও আল-জাজিরা’র

প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সরকারের দায়িত্ব নেয় সামরিক কাউন্সিল যার নেতৃত্বে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং একইসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল আওয়াদ ইবনে আউফ। তিনি বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সামরিক কাউন্সিল দু’বছরব্যাপী অন্তর্বর্তী প্রশাসন চালাবে এবং তারপর নতুন সংবিধানের অধীনে নির্বাচন হবে। এছাড়া এক মাসব্যাপী কারফিউ এবং সব সীমান্ত বন্ধ রাখার কথাও ঘোষণা করা হয়।

কারফিউ জারির পরও বিক্ষোভ থামেনি। ওইদিনই ফের খার্তুমের রাস্তায় নামে বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভের মাত্রা দেখে গতকাল বিবৃতি দেয় সামরিক কাউন্সিল। কাউন্সিলের রাজনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান জেনারেল ওমর জায়ে আল-আবেদিন বলেন, বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। সেনাবাহিনীর ক্ষমতার লোভ নেই। সেনাবাহিনী বেসামরিক সরকারের কাজে হস্তক্ষেপও করবে না। বরং জনগনের দাবির রক্ষাকর্তা হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরো বলেন, আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। যদিও আলোচনায় ওমরের ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টিকে আহবান জানানো হবে না। আবেদিন এরপর বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভের সীমা ছাড়ালে তা মেনে নেওয়া হবে না। জনগনের স্বাধীনতায় কেউ হস্তক্ষেপ করলে সরকারও পাল্টা হস্তক্ষেপ করবে। কিন্তু সেনাবাহিনীর আহবান এবং হুঁশিয়ারি প্রত্যাখান করেছে বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা সুদানিজ প্রফেশনালস এসোসিয়েশন। প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়ের বাইরে গতকাল হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। তারা দ্রুত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানায়। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক কাউন্সিলকে প্রত্যাখান করে বলেছে, দাবি না মানা পর্যন্ত বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে। বিক্ষোভকারীরা মনে করছে, কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত সবাই ওমর আল-বশিরের ঘনিষ্ঠ।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন বলেছে, দুই বছরের আগেই তারা গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতার হস্তান্তর দেখতে চায়। চীন বলেছে, তারা যে কোনো পরিস্থিতিতে সুদান সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ওমর আল-বশিরকে একটি নিরাপদ স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, ৭৫ বছর বয়সী ওমরকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে।