চুয়াডাঙ্গায় ৮ বছরের শিশু হত্যা

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৮, ০৩:১৫

চুয়াডাঙ্গায় ইসমত আরা (৮) নামের এক শিশু হত্যার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। গতকাল রবিবার আনুমানিক সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটে এই হত্যাকাণ্ড। ইসমত আরা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ভাণ্ডারদোয়া গ্রামের হঠাৎপাড়ার ইস্রাফিলের শিশুকন্যা।

জানা গেছে, ভাণ্ডারদোয়া গ্রামের হঠাৎপাড়ার ইস্রাফিলের সাথে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মুসলিমপাড়ার বাবলুর সৎ মেয়ে মিনি খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ছিল একটি পুত্র মিনারুল (১৩) ও একটি কন্যা ইসমত আরা (৮)। জনশ্রুতি আছে, গত ৬ বছর আগে স্বামী ইস্রাফিলসহ তার বোনেরা মিলে মিলি খাতুনকে হত্যা করে। এ নিয়ে একটি মামলাও ছিল। টাকার বিনিময়ে মামলাটি মীমাংসা করা হয় বাচ্চারা ছোট হওয়ায় কারণে।
 
গতকাল সকালে শিশু কন্যা ইসমত আরাকে পৈশাচিক ও নৃশংসভাবে হত্যার পর ভাণ্ডারদোয়ার হঠাৎপাড়ার একটি চাতালের কুঁড়ে ঘরে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

নিহতের চাচী বলেন, মেয়ের মাথায় সমস্যা ছিল, জ্বিন ভুতের আছরও ছিল। রাতে আমার কাছেই ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ইসমত আরা নেই। অনেক খোঁজাখুজির দেখা যায় চাতালের কুঁড়ে ঘরে বাঁশের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে। আমরা তাকে জীবিত উদ্ধার করে গ্রাম্য চিকিৎসকের নিকট নিলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই ইসমত আরা মারা যায়।

নিহত ইসমত আরার ওই বড় চাচী বলেন,  ‘আমি ইসমত আরার জন্য মাদ্রাসায় ভাত দিতে যাচ্ছিলাম’। এদিকে শোনা যায়, ইসমত আরা গত ২ মাস যাবৎ মাদ্রাসায় যায়নি। ইসমত আরা ছিল একালার আয়েশা সিদ্দীকা (রা:) আদর্শ মহিলা কওমী মাদাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং এর তৃত্বীয় শ্রেনির ছাত্রী। ওই বড় চাচী ইসমত আরার মৃত্যুর বিষয়ে একেক সময় একেক কথা বলছেন, যার কোন বাস্তবতা পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় ইসমত আরার সৎ মা দেলোয়ারা খাতুনও একই কথা বলছেন।

এ বিষয়ে  নিহত শিশু ইসমত আরার নানা বাবলু বলেন, আমার মেয়েকে ওরা ৬ বছর আগে হত্যা করেছিল। এখন আমার নাতিকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে। নাতি মারা গেছে আমাকে খবর পর্যন্ত দেয় নি। আমি অন্য মাধ্যমে শুনে ঘটনাস্থলে যাই।

নিহতের নানা অভিযোগে বলেন, ‘মেয়ের বড় চাচা নূর আলম ও বড় ফুফা শহিদুল সৎ মা দেলোয়ালা মেয়ের ভরণ পোষণ করবে না বলে শিশু ইসমত আরাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে’। তিনি আজ সোমবার তার নাতনী হত্যা বিষয়ে মামলা করবেন বলে জানান।

এ দিকে, পৈশাচিক ও মর্মস্পর্শী এই শিশু হত্যা ঘটনায় এলাকায় লোকমুখে নানান গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে একটি আট বছরের মেয়ে কিভাবে বাঁশে ওড়না বেঁধে আত্মহত্যা করতে পারে! প্রতিবেশীরা বলছেন, যে মেয়ে একা একা ঠিক মত ভাত খেতেও পারতো না, আজ সে কিভাবে গলায় ওড়না দিয়ে আত্মহত্যা করলো!

খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসে। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না যে, এটা হত্যা না-কী আত্মহত্যা।

পুলিশ আরো জানায়, আজ সোমবার ময়না তদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের নিকট হস্থান্তর করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু