ভাল বিনিয়োগকারীদের একক ব্যক্তির ঋণসীমা থাকবে না :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৫১

ভালো বিনিয়োগকারীদের একক ব্যক্তির ঋণ সীমা থাকবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকের এ কথা বলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্বে কোথাও ঋণ গ্রহণে এ ধরনের সীমা নেই। এসময় আগামী জুলাই থেকে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া নতুন ভ্যাট আইনে ভ্যাটের তিনটি হার নিয়ে আইএমএফের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, তিন স্তরের ভ্যাট হারে আইএমএফ সম্মতি দিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই কোনো ব্যবসায়ী যাতে ঋণ নিতে সমস্যায় না পড়ে। যখন কোনো খারাপ ঋণ গ্রহীতা এ সুবিধা নিয়ে আর অর্থ পরিশোধ করে না— এ ব্যবস্থা তার জন্য। কিন্তু ভালো ঋণ গ্রহীতার জন্য এ সীমা প্রয়োজন নেই। যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন তাদের জন্য এ সীমা থাকবে না বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট বা একক ব্যক্তির ঋণ সীমা অনুযায়ী কোনো ব্যাংক কোনো অবস্থাতেই মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি একক কোনো ঋণ গ্রহীতাকে ঋণ দিতে পারে না। পূর্বে বিশেষ প্রতিষ্ঠান বা খাতকে এ হারের ৩৫ শতাংশ ঋণ দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এ সীমা কমিয়ে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থমন্ত্রীর মতে, এ সীমা থাকবে অসত্ ব্যবসায়ীদের জন্য, যারা ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ করেন না।

ওয়াশিংটনস্থ আইএমএফের প্রধান কার্যালয়ে আইএমএফের ডিএমডি মিতসুহিরো ফুরুসুয়ার সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ অংশ নেন। আইএমএফের সাথে বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা নতুন অর্থ বছর থেকে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি।

ভ্যাটের হার নিয়ে আইএমএফের সঙ্গেও দীর্ঘ মতপার্থক্যের সমাধানের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা তাদের (আইএমএফ) বোঝাতে সক্ষম হয়েছি অন্যান্য উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশে একক হারে ভ্যাট নির্ধারণ করা কঠিন। তাই আমরা এবার ভ্যাটের হার তিন স্তর করতে যাচ্ছি। এতে আইএমএফও সম্মতি দিয়েছে। ভ্যাটের এ হার হবে ১০ শতাংশ, সাড়ে সাত শতাংশ এবং পাঁচ শতাংশ। তবে কাস্টমস পর্যায়ে কিছু পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট থাকবে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অটোমেশনে আইএমএফ সহায়তা করতে চায় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অটোমেশন হলে আর্থিক খাতে অনিয়ম অনেক কমে আসবে। এক ব্যক্তি ১০ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা আর হবে না। আর্থিক খাত উন্নত করতে আইএমএফ বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করে; যেগুলো আমাদের আর্থিক খাতে ব্যবহার করা যায়। তারা আমাদের আর্থিক ব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা করতে আগ্রহী। আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টিনা ল্যগার্দ এর চলতি বছর তার বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে ভিন্ন মত থাকলেও বিশ্বব্যাংক বলেছে, দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির পাঁচটি দেশের একটি বাংলাদেশ। তাই প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ নিয়ে দ্বিমত থাকলেও বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মধ্যে দ্বিমত নেই।