গাজীপুরে অটোরিকশা চালক হত্যার দায়ে মো. আলম (২০) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এ রায় প্রদান করেন।
একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় অটোরিকশা চুরির অপরাধে ওই আসামিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের লোহাকৈর এলাকার খালুর (মো. আন্নিছ) বাসায় ভাড়া থাকে অটোরিকশা চালাতো সার ইসলাম। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি সকালে সার ইসলাম অটোরিকশা নিয়ে বের হয়। রাত ৯টা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় তাকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সার ইসলামের খালু মো. আন্নিছ রিকশা চুরির খবর পায়। পরে জয়দেবপুর চৌরাস্তা এলাকায় একটি গ্যারেজের সামনে গিয়ে আসামি আলমকে অটোরিকশাসহ আটক করে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে আলম স্বীকার করে বড়চালা এলাকার বনের ভেতর সার ইসলামকে হত্যা করে অটোরিকশাটি চুরি করে নিয়ে আসে। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে সার ইসলামের জবাই করা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। ঘটনাটি জয়দেবপুর থানা পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সার ইসলামের লাশ উদ্ধার এবং ধৃত আসামি আলমকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নিহতের খালু আন্নিছ বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই একেএম ফজলুল হক তদন্ত শেষে আসামি আলমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত আলমকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সাথে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। একই ঘটনায় অটোরিকশা চুরি করার অপরাধে আরেকটি ধারায় তাকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহমদ এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সবুজ। গাজীপুর আদালত পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
