নির্যাতনে গৃহবধূ মৃত্যুর অভিযোগ, স্বামী-শ্বশুর আটক

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৪০

নারায়ণগঞ্জের সাহাপাড়ায়

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজার সাহাপাড়ায় নির্যাতনে বৃষ্টি চৌধুরী নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকালে শহরের টানবাজার সাহাপাড়ার গিয়াস উদ্দিনের বাড়ির ৭ম তলা থেকে অচেতন অবস্থায় বৃষ্টি চৌধুরীকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিত্সক নূরুজ্জামান মৃত ঘোষণা করেন। ডা.  নূরুজ্জামান জানান, বৃষ্টি চৌধুরীর শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ গলায় দাগ পাওয়া গেছে। এতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায় তার মৃত্যু স্বাভাবিক না।

তবে নিহতের স্বামী শহরের ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তা ও টানবাজারের সুদের ব্যবসায়ী সুভাস চন্দ্র রায়ের ছেলে সুদীপ রায়ের দাবি, তার স্ত্রী পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল দরজা বন্ধ পেয়ে অনেক ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে কালীরবাজার থেকে তালা ভাঙার মিস্ত্রী এনে দরজা ভেঙ্গে বৃষ্টির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বৃষ্টি চৌধুরীর মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন শহরের অবস্থানরত তার আত্মীয়-স্বজন ।

এ সময় সকলেই অভিযোগ করে বলেন, বৃষ্টির ননদ ডেজী, স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি নানাভাবে নির্যাতন করতো। এ সময় নিহত বৃষ্টি চৌধুরীর ভাই মিঠুন চৌধুরীসহ নিকটাত্মীয় অনেকেই অভিযোগ করেন, বৃষ্টিকে হত্যা করেছে স্বামী সুদীপ, শ্বশুর সুভাস, ননদ ডেজীসহ পরিবারের লোকজন। কারণ বিয়ের সময় ১৫ লাখ টাকা যৌতুক নেওয়ার পর আরো যৌতুক দাবি করে আসছিলো সুদের ব্যবসায়ী সুভাস, তার ছেলে সুদীপ ও তার বোন ডেজী। গত কয়েকদিন ধরে যৌতুকের কারণে মারধর করা হচ্ছিল বলে বৃষ্টির বাবা কুমিল্লার মুদি ব্যবসায়ী শ্যামল চৌধুরী জানতে পারেন।

নিহত বৃষ্টি চৌধুরীর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর থানার উপ পরিদর্শক আলাউদ্দিন আল আজাদ লাশের সুরত্হাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠান। ঘটনার বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, বৃষ্টি নামের এক গৃহবধূ মারা গেছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী সুদীপ রায় ও শ্বশুর সুভাস চন্দ্রকে থানায় আনা হয়েছে। ঠিক এখনই বলা যাবে না এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। ময়না তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত গৃহবধূর মৃত্যুর সঠিক কারণ আপাতত বলা যাচ্ছে না।