স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
প্রায় ৩০ বছর আগে তত্কালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশে চাষাঢ়ায় নির্মাণ করা হয়েছিল দুই তলাবিশিষ্ট ‘শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়-২৪’। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৮২ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এই বিদ্যালয়টিতে শেষ সংস্কার কাজ করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। এরপর আর কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। গত দুই বছরে বিদ্যালয়টির সংস্কার কাজের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে কয়েকবার। প্রতিবারই সংস্কারের আশ্বাস দিলেও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।
গত বৃহস্পতিবার সকালে শ্রেণি-কার্যক্রম চলাকালীন হঠাত্ খসে পড়ে বিদ্যালয় ভবনের সিলিং। এতে কেউ আহত না হলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় স্কুলটির পাঠদান কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন মজুমদার। বিদ্যালয়টি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভবনের প্রতিটি রুমের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। অনেকগুলো স্থানে খসে পড়েছে সিলিং। দেওয়ালের পলেস্তারা খসে গিয়ে ভেতরের রড দৃশ্যমান হয়েছে কোথাও। সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে ভবনটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন মজুমদার বলেন, ভবনটি নাজুক অবস্থায় রয়েছে দীর্ঘদিন যাবত্। আজ (গত বৃহস্পতিবার) সকালে ক্লাস চলাকালীন হঠাত্ সিলিং খসে পড়তে থাকে। তবে এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। তিনি আরো বলেন, গত দুই বছরে কয়েকবার বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছে। গত মাসের ২৪ তারিখ ভবনটির সংস্কার কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। তবে সে টাকা এখনো তোলা হয়নি। তার আগেই এই দুর্ঘটনা ঘটে গেল।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুম বিল্লাহ বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাদের এ বিষয়ে সকালেই জানিয়েছেন। তাত্ক্ষণাত্ আমি বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানাই। মন্ত্রণালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ার পাঠানো হচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করবেন এবং এ বিষয়ে আমাদের জানাবেন। যদি ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। সংস্কারের পর আবার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা চাই না, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ থাকুক। তবে এমন কোনো পরিস্থিতি সামনে আসলে আমরা উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আশেপাশের অন্য স্কুলে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবো। এ বিষয়ে আমাদের বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে।
