ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি শুধু সংকটে নেই; আজ পুরো জাতি সংকটে আছে। এই বেআইনি ও দখলদারি সরকারের কারণে মানুষের মত প্রকাশের বা ভিন্নমত প্রকাশের যে স্বাধীনতা তা ধ্বংস হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ আজ কথা বললেই গ্রেফতার করা হয়। গতকাল শুক্রবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরে তার নিজ বাসবভনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, বাংলাদেশে তো এখন কোনো রাজনীতি নেই, রাজনীতি তো একটা দলের কাছেই চলে গেছে। সেই দলের হাতেই এখন শাসনব্যবস্থা, পুলিশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হয়। সাংবাদিকরাও এখন সত্য প্রকাশ করতে পারে না যদি সেটা সরকারের বিপক্ষে হয়। মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই এখন, তাই অন্যায়কারীরা অন্যায় করতে ভয় পায় না।
তিনি বলেন, নুসরাত আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো। দেশে যে কোনো শাসনব্যবস্থা নেই, আইনের প্রতি মানুষের ভরসা নেই তা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিল নুসরাত।
ঠাকুরগাঁও হরিপুরে বিজিবির গুলিতে গ্রামবাসী নিহতের ঘটনায় যে মামলা খারিজ হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি বলেন, এই সরকার প্রশাসন, আইন সব নিজ দখলে রেখেছে, তার প্রমাণ গরিবের বিচার না পাওয়া। আমরা বলেছি, পুনরায় একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন—জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহ-সভাপতি আবু তাহের দুলাল, দপ্তর সম্পাদক মামুন-উর-রশিদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ।
‘কারাভ্যন্তরে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি
নেতাকে হত্যা করা হয়েছে’
কারাগারের ভেতর কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ শামীম আরজুর মৃত্যুর জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আরজুর মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বরং তাকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, কারাভ্যন্তরে তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বরং এটি একটি হত্যা। সরকারের নীলনকশা অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষের চক্রান্তে তাকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হলো। আরজুর মৃত্যুর জন্য সরকারই দায়ী। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তাঁর গতিশীল নেতৃত্বের জন্যই তিনি সরকারের প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কালেক্টরেট চত্বরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে ফেরার পথে আরজুসহ বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরের দিন নাশকতার মামলায় তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার কারাগারে হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়েন শামীম আরজু। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
