রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে হামিদ হলে সভাপতি নাঈম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান অপুর সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আহতদের চারজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
নগরীর মতিহার থানার ওসি বলেন, নেশা করে হলে মাতলামি করা নিয়ে সভাপতির সমর্থকদের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নেশাগ্রস্তরা হামলা চালিয়ে এলোপাথারি মারপিট শুরু করে। আক্রান্তরা হামলাকারীদের প্রতিরোধ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ নেতাকর্মী আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের অধিকাংশই সভাপতির সমর্থক বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি বাপ্পি হোসেন, রিপন জামান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাদি আহমেদ, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রাহাদুল ইসলাম রামেকের ৩১নং ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। এ ব্যাপারে বুধবার দুপুর পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেন নি বলে জানান ওসি।
রুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি নাঈম রহমান বলেন, ৪/৫জন নেশা করে হলে প্রবেশ করে ছাত্রলীগের ছেলেদের এলোপাথারি মারপিট শুরু করে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি অস্বীকার করে রুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান অপু বলেন, সেখানে কেউ মাতলামি করেনি। পূর্ব বিরোধের জের ধরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর এম কামরুজ্জামান সরকার বলেন, গভীর রাতে হামিদ হলের ঘটনাটি দুঃখজনক। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ইত্তেফাক/আরকেজি
