ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন সব প্রতিপক্ষের কাছেই সমীহ জাগানিয়া দল। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেললেও এই ফরম্যাটে পরবর্তী ধাপে যাওয়া তথা বড় টুর্নামেন্ট জেতা হয়নি বাংলাদেশের। ত্রিদেশীয় সিরিজেও বড় দলের বিরুদ্ধে ‘ফাইনাল’ জেতার স্বাদ পায়নি টাইগাররা। মাশরাফি বিন মুর্তজা মনে করেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজকের ফাইনাল জেতাটা তাই অনেক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ।
ত্রিদেশীয় সিরিজ জিততে মরিয়া বাংলাদেশ। অধিনায়কের চাওয়া, নিকট ভবিষ্যতে ওয়ানডেতে বড় কিছু অর্জনের অভিযাত্রা শুরু হোক আজকের ফাইনাল জেতার মাধ্যমে। যেখানে ভবিষ্যতের ক্রিকেটাররাও পাবেন চ্যালেঞ্জ জয়ের সাহস, প্রেরণা।
মিরপুর স্টেডিয়ামে আজ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনাল তথা ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে মাশরাফি বলেছেন, ‘যদি জিততে পারি তবে এটার প্রভাব ভালো হবে। এখন যারা ড্রেসিংরুমে আছে, যারা জুনিয়র প্লেয়ার, তারা হয়তোবা এরকম একটা জয়ের স্বাদ কি, এরকম ম্যাচ জিতলে কেমন লাগে, এটা বুঝবে। তখন হয়তোবা তাদের মধ্যে ওই চাওয়াটা, বা জয়ের ক্ষুধাটা তৈরি হতে পারে। এইসব ক্ষেত্রে কখনো কখনো এমন টুর্নামেন্ট জিতলে জুনিয়র প্লেয়াররা অনেক উজ্জীবিত হয়।’
ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের পুলক অনুভব করতে চান সিনিয়র ক্রিকেটাররাও। গতকাল ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘সিনিয়রদের কথা যদি বলি, আমাদের জন্যও এটা একটা বড় সুযোগ। আমার মনে হয় যে এরকম টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা যেকোনো টিমের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার।’ দেশের মাটিতে প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের নেশায় বিভোর মাশরাফি বাহিনী।
ওয়ানডে ক্রিকেটে একবার ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০০৭ বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে কানাডা-বারমুডার সঙ্গে খেলা ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল হাবিবুল বাশারের দল। তবে সেখানে ছিল না কোনো ফাইনাল ম্যাচ। এরপর ঘরের মাঠে ২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে ফাইনালে হার ছিল দুই উইকেটে। ১৫২ রানের পুঁজি নিয়ে ছয় রানে প্রতিপক্ষের পাঁচ উইকেট ফেলার পর সাঙ্গাকারার প্রতিরোধের দেয়ালও ভেঙেছিল আশরাফুলের দল। পরে নবীন রুবেল হোসেনের উপর দিয়ে মুরালিধরনের চালানো ব্যাট নামক ‘চাবুকের’ আঘাতে হেরেছিল বাংলাদেশ।
২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে দুই রানে হারের দগদগে ক্ষত এখনো পোড়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। অতীত ভুলে গোটা দেশকে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের স্বাদ পাইয়ে দিতে মরিয়া টাইগাররা।
গতকাল মাশরাফি বলেছেন, ‘ফাইনাল ম্যাচে জেতার জন্য আমরা উদগ্রীব হয়ে আছি। এটা সত্যি কথা। প্রথমবারের (দেশের মাটিতে) মতো হবে যদি হতে পারি। তবে এটা হওয়ার আগ পর্যন্ত বেশি চিন্তা করলে চাপ এসে দাঁড়ায়। ফাইনাল ম্যাচে চাপ থাকেই। কাল (বৃহস্পতিবার) জিতলেও থাকত।’ অধিনায়কের চোখে, স্নায়ু চাপের সময়টা সামলাতে হবে ভালোভাবে। সেখানেই কাজে লাগাতে হবে বুদ্ধি, পরিকল্পনা।
২০০৯ সাল, ২০১২ সাল, ২০১৬ সাল; মিরপুর স্টেডিয়ামেই তিন টুর্নামেন্টের তিনটি ফাইনাল হেরেছিল বাংলাদেশ। সংবাদ সম্মেলনে সেই তিন ফাইনালের কথা তুলতেই মাশরাফির স্বীকারোক্তি, এটা মাথায় ছিল না।
তিনি বলেন, ‘এইটা আসলে আমার মাথায় ছিল না। মনে না করাইলেই পারতেন। এইটা আসলে প্রত্যেকটা মানুষের জন্যই নতুন সুযোগ। আমি হয়তো তিনটা ফাইনালে ছিলাম, মুশফিক ছিল, সাকিব ছিল, তামিমও ছিল হয়তোবা। তো এটা আমাদের জন্য নতুন আরেকটা সুযোগ। কালকে (আজ) সম্পূর্ণ নতুন একটা ম্যাচ। তো আগের ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবার দরকার মনে করছি না। তবে হার জিত তো থাকবেই, একদল জিতবে আর একদল হারবে।’
এক নজরে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা
দলীয় সর্বোচ্চ রান
বাংলাদেশ ৩২০/৭ (ঢাকা, ২০১৮)
শ্রীলঙ্কা ৩৫৭/৯ (লাহোর, ২০০৮)
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান
বাংলাদেশ ৬৪০ (তামিম ইকবাল)
শ্রীলঙ্কা ১২০৬ (কুমার সাঙ্গাকারা)
ব্যক্তিগত সেরা ইনিংস
বাংলাদেশ ১২৭ (তামিম ইকবাল)
শ্রীলঙ্কা ১৬১* (তিলকরত্নে দিলশান)
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ উইকেট
বাংলাদেশ ২৩ (মাশরাফি বিন মুর্তজা)
শ্রীলঙ্কা ৩১ (মুত্তিয়া মুরালিধরন)
ব্যক্তিগত সেরা বোলিং
বাংলাদেশ ৫-৬২ (আব্দুর রাজ্জাক)
শ্রীলঙ্কা ৬-২৫ (চামিন্দা ভাস)
ব্যক্তিগত সেরা জুটি
বাংলাদেশ ১৪৪ (তামিম-সাকিব)
শ্রীলঙ্কা ২১৫ (থারাঙ্গা-জয়াবর্ধনে)
ইত্তেফাক/কেআই
