মইনুল হকের দ্বিতীয় সৃষ্টি ‘দূরত্ব মাত্র ত্রিশ সেন্টিমিটার’

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:৫১
 
২৮ বছরের প্রবাস জীবন। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ এতটুকু কমেনি। বরং আরো জেকে ধরেছে মনের তাড়না। তাই প্রবাসের ব্যস্ত জীবনেও লিখে চলেছেন প্রতিনিয়ত। কৌতুহল থেকেই কবি মইনুল হকের স্বাক্ষাত্কার নিতে যাওয়া। রাজধানীর উত্তরায় উনার বাসায় পৌঁছেই গেটে বাড়ির নাম লেখা ‘কপোতাক্ষ’। ব্যাপারটা বেশ পুলকিত করলো আমাদের। এক কবি প্রবাসে বসেও চোখের জল ফেলেছিলেন তার শৈশবের নদীমাতা কপোতাক্ষের জন্য; এর এখানে আরেক প্রবাসী কবি ইটপাথরের ভেতরও খুঁজে নিয়েছেন ‘কপোতাক্ষ’কে!
 
এবারের বইমেলায় পাওয়া যাবে মইনুল হকের কবিতার বই ‘দূরত্ব মাত্র ত্রিশ সেন্টিমিটার’। বইটি বাজারে আনছে যুক্ত প্রকাশনী। বইয়ের ভূমিকা লিখেছেন বিশিষ্ট নাট্যকার মাসুম রেজা। ভূমিকায় মাসুম রেজা বাংলা সাহিত্যে কবি মইনুল হকের স্থায়ী আসন কামনা করেছেন। এই চাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তিও খুঁজে পাওয়া যাবে বইটির প্রতিটির কবিতার ছন্দে ও উপমায়।
 
বইটির নামকরণের ব্যাখ্যাও বেশ মুগ্ধ করার মতো। ‘দূরত্ব মাত্র ত্রিশ সেন্টিমিটার’ এই দূরত্বটা আসলে মস্তিষ্ক ও হার্টের দূরত্ব। কবির ভাষায়, এরমধ্যে সমস্ত জীবন ও জগত লুকিয়ে আছে। এই ৩০ সেন্টিমিটারের দূরত্বটা বুঝলেই জীবনকে চেনা যায়। কবি তার কবিতায় সেই দূরত্বই ঘুচাতে চেয়েছেন। মানুষের মন ও মননকে উপস্থাপন করেছেন নানান আঙ্গিকে।
 
ফরিদপুরে জন্ম নেয়া মইনুল হক বাবা আবদুস সামাদ মিয়ার কর্মস্থল যশোর, মাগুরা ও কুষ্টিয়ায় কাটিয়েছেন দূরন্ত শৈশব ও কৈশরের দিনগুলো। পরে মায়ের ইচ্ছেতেই কুষ্টিয়াতে বাড়ি করে স্থায়ী হন তারা। এরপর ১১ ভাইবোনের বড় এক পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে, জীবন-জীবিকার সন্ধানে ২৮ বছর আগে পাড়ি জমান অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়। মাত্র ৩০ দিনের সফরে স্ত্রী মারিয়াসহ বাংলাদেশে এসেছিলেন মইনুল হক। আবার ফিরে যাবেন নিজ কর্মস্থল অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়। আবার শীতের অতিথি পাখির মতো ফিরবেন আগামী শীতে...।
 
শেষ জীবনটা কোথায় কাটাতেন চান? এমন প্রশ্নের উত্তরে কবি মইনুল হক জানালেন, বাকিটা জীবনও কাজের মধ্যেই থাকতে চাই। এতে যদি আমার পরিবার পরিজনের কোনো উপকারে আসতে পারি সেটাই বড় পাওয়া। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে থেমে যেতে রাজি নন তিনি।
 

ইত্তেফাক/এএম।