হতাশ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশ দল

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:৩৩
মাথা নিচু করে সংবাদ সম্মেলনে যেভাবে এলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, এটা তার পাওনা ছিল না। দুর্দান্ত প্রতাপে টুর্নামেন্টে প্রথম তিন ম্যাচ খেলার পর দুটো ম্যাচের, ভালো করে বললে একটা ফাইনালের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল সাজানো সংসার। দীর্ঘশ্বাস ফেলে অধিনায়ক মাশরাফি নিজেই বললেন, ‘সবাই খুব ডাউন, সবাই খুব হতাশ। এমন একটা ফাইনাল হারের পর সবাই ভেঙে পড়েছে।’
 
বাংলাদেশ দল হতভম্ব হয়ে পড়ে ব্যাটিং শুরু করার আগেই। আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন সাকিব আল হাসান। সাথে সাথে দল বুঝে যায়, সাকিবের পক্ষে এই ম্যাচে আর খেলা সম্ভব না। মাশরাফি নিশ্চিত নন যে, এটা দলের বাকী ব্যাটসম্যানদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে কি না। তবে বলছিলেন, ‘স্বাভাবিক যে, দলের সেরা খেলোয়াড় নেই, সবাই হতাশ হতে পারে। তারপরও আমার কাছে মনে হয় না, ভেঙে পড়েছে কেউ।  সাকিব যখন পড়ে যায়, তার হাত দেখে আমরা শিউর হয়েছিলাম তাকে আমরা ব্যাটিংয়ে পাচ্ছি না।  প্রত্যেক খেলোয়াড়রই জানত সাকিব খেলতে পারবে না।  ড্রেসিংরুমে আমরা আলোচনাও করেছি। সাকিব ব্যাটিং করতে পারবে না, এটা মাথায় মধ্যে কাউকে না আনতে। আমার হয়তো এটা এক্সকিউজ দেওয়া ঠিক হবে না। ২২০ চেজ করার মতো ব্যাটসম্যান আমাদের ছিল।’
 
মাশরাফি বরং এই পরাজয়ের জন্য দায় দিলেন বেশী ব্যাটসম্যানদের মানসিকতাকে। এই উইকেটে কীভাবে খেললে রান হতো, সেটা জানাই ছিলো, ‘উইকেটে যে আচরণ ছিল। বল উঠছিল, নামছিল। আমরা জানি এখানে কিছুক্ষণ সময় না কাটালে শটস খেলা খুব কঠিন। হয়তো দশ ওভারের ভেতর রান ছিল না, এই কারণে ব্যাটসম্যানরা শটস খেলেছে। আমার জন্য খুব কঠিন ওই সময়টা ব্যাখা করা। ওই সময় ব্যাটসম্যানদের মাথায় আসলে কি চলছিল। দশ ওভার শেষে রিয়াদ এবং মুশফিক যেভাবে ব্যাটিং করছিল। আমার মনে হয় তাদের জুটিটা আরও একটু এগিয়ে যেতে পারলে পরের দিকে হয়তো একটু সহজ হতো। তখন হয়তো সাকিব একটু এ্যাপোর্ট দিতে পারত! কারণ এটা ছিল ফাইনাল। কিন্তু মুশফিক আউট হওয়ার পর চিত্রটা পাল্টে যায়।’
 
এর মধ্যে চেষ্টা করেছেন রিয়াদ। কিন্তু মাশরাফি বলছিলেন, তিনি সঙ্গীর অভাবে পেরে ওঠেননি, ‘আরেক পাশের সাপোর্ট অবশ্যই প্রয়োজন ছিল। রিয়াদ শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছে। ওই সময় শটস খেলাটা খুব স্বাভাবিক। ৩-৪-৫ থেকে যদি সাপোর্ট পেত তাহলে ওর খেলাটা আরও ডিপে যেত। আমি যখন উইকেট যাই দেখিছি, তখনো ও চেষ্টা করছিল। পার্টনার হেল্প না করতে পারলে আসলেই কঠিন।’ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ যে মন মতো উইকেট ফাইনালে অন্তত পায়নি, সেটা স্বীকার করলেন মাশরাফি, ‘উইকেট অবশ্যই আমরা ভাল উইকেট চেয়েছিলাম। শুরু থেকেই বলেছি, প্রথম ম্যাচ থেকেই চেয়েছি হাইস্কোরিং উইকেট আমরা ব্যাটিং করতে চাই। বোলিংয়ে আমাদের চারজন পেসার আছে, সাকিব ছিল। নাসির খেলেছে, মিরাজ খেলেছে। সো আমাদের বোলিং ইউনিট স্ট্রং ছিল। আমরা সব সময় চেয়েছি ভাল উইকেটে খেলতে।’
 
ইত্তেফাক/কেআই