নতুন সাজে রাশিয়া

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:৪১
ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সারা দুনিয়ার মানুষের চোখ এখন রাশিয়ার দিকে। ইতোমধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে আয়োজক দেশটি। এর মধ্যে আছে পর্যটকদের সুবিধার্থে রুশ ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিকেও গুরুত্ব দেয়া। এছাড়া রাস্তাঘাট, বিমান বন্দর, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ সবখানেই সংস্কার কাজ চলছে। দেশটির ১১টি শহরের ১২টি মাঠে বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এসব শহরের রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে বিশাল আকারের টেলিভিশন মনিটর।
 
দেশটিতে রুশ ভাষার একচেটিয়া প্রাধান্য রয়েছে। অন্য কোন ভাষার ব্যবহার নেই বললেই চলে। তবে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দেশটিতে ইংরেজির প্রাধান্য বেড়েছে। সড়কের দিক নির্দেশক এতোদিন রুশ ভাষায় লেখা থাকলেও এখন এর পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাস এবং পাতাল রেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টেশনের পরিচিতি সংক্রান্ত ভাষাতেও রুশের পাশাপাশি ইংরেজির ব্যবহার হচ্ছে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও সুপার মলে চাকরির ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় দক্ষদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
 
মস্কো আরবান বিনিউয়াল ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা বেলায়েভ বলেন, ইউরোপের অন্যান্য শহরের সঙ্গে তুলনা নিয়ে আমরা ভীত নই। পর্যটক ও সমর্থকরা মস্কোর সুযোগ-সুবিধা দেখে সন্তুষ্ট হবে। তবে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সকল কার্যক্রম মে মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
 
ফিফা বিশ্বকাপের ২১তম আসরের পর্দা উঠবে চলতি বছরের ১৪ জুন। ১৫ জুলাই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে হবে শিরোপা ফয়সালা। উদ্বোধনী ম্যাচও হবে এই মাঠেই। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের সব স্টেডিয়াম প্রস্তুত করেছে রুশ সরকার। তবে নজর কেড়েছে লুঝনিকি। প্রায় ৮৫ হাজার আসনের এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই মাঠের কৃত্রিম ঘাসে বল নিয়ে দৌঁড়াবেন ফুটবলাররা।
 
রাশিয়া বিশ্বকাপের আয়োজন প্রস্তুতিতে ব্যয় ধরা হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৫ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। রাশিয়ান চেম্বার অব অ্যাকাউন্ট সম্প্রতি গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাশিয়া নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং সংস্কারসহ নিজেদের প্রচুর অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। বলা যায়, এটি হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল আসর।
 
প্রস্তুতি ব্যয়ের এই বড় অঙ্কের টাকার মধ্যে খেলাধুলা সম্পর্কিত স্থাপনা নির্মাণ এবং সংস্কারে ব্যয় হচ্ছে অর্থের ৩৮ ভাগ। বাকিটা ব্যয় হচ্ছে বিশ্বকাপ উপলক্ষে তৈরি করা রাস্তা, সর্বসাধারণের ব্যবহার উপযোগী বিভিন্ন স্থাপনা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে।
 
ইত্তেফাক/কেআই