গার্দিওলার
কঠিন পরীক্ষা
স্পোর্টস ডেস্ক
লিভারপুল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শ্রেষ্ঠত্বের পথে আরেকটু এগিয়ে যেতে আজ রবিবার ঘরের মাঠে চেলসিকে আতিথ্য দেবে। প্রতিযোগিতার অন্য ম্যাচে শিরোপাধারী ম্যানচেস্টার সিটি এদিন ক্রিস্টাল প্যালেসের আতিথ্য নিবে।
চার মৌসুম আগে অল রেডরা প্রিমিয়ার লিগের নতুন কাঠামোয় কখনোই শিরোপা না জেতার আক্ষেপ ঘোঁচানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। সেবার ৩৬তম ম্যাচে চেলসির মুখোমুখি হবার সময় পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা লিভারপুলের সামনে সমীকরণটা ছিল, শেষ তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট পেতে হবে। এমন অবস্থায় ম্যাচটা হেরে আক্ষরিক অর্থেই শিরোপা সিটির হাতে তুলে দিয়েছিল লিভারপুল।
এবার সমীকরণটা ঠিক ২০১৩-১৪ মৌসুমের মতো না হলেও দৃশ্যপটটা হুবহু একই। মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ তালিকার তিনে থাকা চেলসি, অথচ মূল লড়াইটা সিটির সঙ্গে। বাংলাদেশ সময় আজ রাতে যখন সেই চেলসির বিপক্ষে মাঠে নামবে লিভারপুল, অতীত স্মৃতি কি সিন্দাবাদের ভূত হয়ে ঘাড়ে চড়বে? দলের কোচ য়ুর্গেন ক্লপ অবশ্য এমনটা ভাবছেন না।
কোচ ক্লপ জানালেন পাঁচ বছর আগের সে দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে ভাবছেন না তিনি। গেল শুক্রবার প্রিমিয়ার লিগে মার্চের সেরা কোচের পুরস্কার পাওয়া জার্মানটি বলেন, ‘এই রুমে ঢোকার আগে আমি এক সেকেন্ডের জন্যেও ২০১৪ সালের কথা ভাবিনি। আপনাদের ছাড়া আর কারো মনে এটা আছে কি না তা নিয়েও আমার সন্দেহ আছে। আমি এর কথা শুনেছি কিন্তু এটা আমাদের উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।’ দীর্ঘদিন ধরেই শিরোপার কাছে এসেও সফল হতে না পারা এই কোচের মতে ক্লাব দুটো এক হলেও দৃশ্যপট পুরোপুরি ভিন্নই। তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ নতুন এক গল্প। রবিবারের খেলার উপর এটা পুরোপুরি নির্ভর করছে, ইতিহাসে নয়। সবকিছু বদলে গেছে, শুধু ক্লাব আর তাদের রংগুলো একই আছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের আবারও অ্যানফিল্ডের জীবনীশক্তিকে ব্যবহার করতে হবে। যেভাবে আমাদের সমর্থকরা সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে আর যেভাবে আমাদের সঙ্গে তারা বেড়ে উঠেছে তাতে আমি বেশ খুশি। এখন এটা প্রমাণের সময়। জয়ের জন্যে আমাদের সব সম্পদকেই ব্যবহার করতে হবে।’
প্রতিপক্ষ শিবিরে এডেন হ্যাজার্ডই ক্লপের বড় দুশ্চিন্তার নাম। তিনি বলেন, ‘তার অনুজ্জ্বলতা নিশ্চিত করতে হবে আমাদের। তার কাছে পাসের রাস্তা বন্ধ করতে হবে আমাদের। অন্য দলগুলো যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল তাঁর চেয়ে ভালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে আমাদের। সে যখন বল পায় তখন ইতোমধ্যেই দেরি হয়ে যায়। সে খেলাটা পড়তে পারে, পাসগুলো পড়তে পারে। আপনার গোলরক্ষককে সে একা পেয়ে গেলে তাকে হারানো সম্ভব নয়।’ এদিকে পয়েন্ট তালিকার ১২তম দল ক্রিস্টাল প্যালেসকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেলেও শিরোপাধারী সিটির জন্যে তা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। মৌসুমের প্রথমার্ধে গেল ডিসেম্বরে এই ক্রিস্টাল সিটিকে তাদেরই মাঠে হারিয়েছিল ৩-২ গোলে।
আসছে বৃহস্পতিবার আবার টটেনহ্যামকে নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে আতিথ্য দেবে কোচ পেপ গার্দিওলার দল যার প্রথমটিতে ১-০ গোলে হেরে এসেছিল তারা। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রাখবেন নাকি পূর্ণ শক্তির দল নামাবেন এই দোটানার একটা সমাধান করে তবেই ক্রিস্টালের মুখোমুখি হতে হবে গার্দিওলাকে।
