স্পিন, স্পিন রব নিয়েই চট্টগ্রামে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্ট। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঘূর্ণি জাদু দেখার আশাই করা হয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের দুদিন অতিবাহিত হলেও বলার মতো স্পিন ভেল্কি দেখা যায়নি সাগরিকার উইকেটে। গতকাল কয়েকটি বল টার্ন করলেও মোটাদাগে উইকেট বুকে টানেনি বোলারদের। বরং প্রথম দুই দিন বোলারদের শাসন করলেন ব্যাটসম্যানরা।
দুই দিনে রান উঠেছে ৭০০। উইকেট পড়েছে ১১টি। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫১৩ রানের পর গতকাল দ্বিতীয় দিন শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৮৭ রান। এখনও ৩২৬ রানে পিছিয়ে শ্রীলঙ্কা।
সাগরিকার উইকেট প্রকৃত স্পিন জাদু দেখার অপেক্ষায় রেখেছে দর্শকদের। তাহলে কখন উইকেট স্পিন সহায়ক হবে? শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ বলছেন, আজ ম্যাচের তৃতীয় দিন থেকে উইকেটে সাহায্য পেতে পারেন স্পিনাররা। তার মতে, গতকাল চা বিরতির পর থেকেই কিছুটা টার্ন দেখা গেছে। ম্যাচের প্রথম দিনে ৩৭৪ রান তুলেছিল বাংলাদেশ চার উইকেটে। গতকাল দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ শেষ ছয় উইকেটে যোগ করেছে ১৩৯ রান। এদিন সাত উইকেটে ৩২৬ রান উঠেছে সাগরিকায়।
উইকেটের টার্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে হেরাথ বলেছেন, ‘তৃতীয় দিন থেকে স্পিনারদের জন্য কিছু থাকবে। আজ (গতকাল) চা বিরতির পর থেকে আমি কিছুটা টার্ন দেখেছি।’ প্রথম দিন উইকেট শূন্য ছিলেন হেরাথ। গতকাল অবশ্য তিন উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। তারপরও ১৫০ রানে তিন উইকেটে অভিজ্ঞ এ স্পিনারের সঙ্গে খুব মানানসই নয়। দুই দিন শেষে ম্যাচে দুদলের অবস্থান সমানই দেখছেন হেরাথ। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে লড়াইটা এখনও সমান অবস্থায় আছে। আমাদের আরো তিনশ’ রান করতে হবে কোনো ধরনের অবস্থানে যেতে।’
প্রথম ইনিংসে আগে বাংলাদেশের রানটা ধরাই শ্রীলঙ্কার মূল টার্গেট। তারপরই ম্যাচে নিজেদের করণীয় ঠিক করতে চায় দলটি। হেরাথ বলেন, ‘এখন আমাদের প্রথমে প্রয়োজন ৩০০ রান করা, যেটা আমরা পিছিয়ে আছি। তারপর দেখব, উইকেট কেমন আচরণ করে। সে অবস্থান থেকেই ঠিক করব আমরা কিভাবে এগুব।’ তবে উইকেটকে ব্যাটিং সহায়ক বলেই উল্লেখ করেছেন হেরাথ। বাঁহাতি এ স্পিনার বলেন, ‘এখনও এটা ব্যাটসম্যানদের সহায়ক উইকেট। তারা ৫০০’র বেশি রান করেছে। আমরা এক উইকেটে ১৮০।’
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুমিনুল, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহর প্রশংসা করেছেন হেরাথ। ১৭৫ রান করে মুমিনুল এ লঙ্কান স্পিনারেরই শিকার হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘মুমিনুল ১৭৫ রান করেছে, আমার মনে হয় এটা স্পেশাল ইনিংস। এটা বড় অর্জন। মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ ভালো ব্যাটিং করেছে। এটা এখনও ভালো ব্যাটিং উইকেট।’
ইত্তেফাক/কেআই
