নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই শঙ্কিত

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৮

আইশা আক্তার নিশু

নারীর ক্ষমতায়ন তথা সামাজিক অগ্রগতি সাধনে নারীর অংশগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টিও চলে আসে। কেননা নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনোদিনও নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। নারী সমাজ তথা আমরা নিরাপত্তা নিয়ে খুবই শঙ্কিত। এখন কেন জানি মনে হয় আমরা কোথাও নিরাপদ নই। কী ঘরে কী বাইরে! আর যাতায়াতের সহজ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম পাবলিক পরিবহনের কথা আর কী বলবো? পাবলিক পরিবহনে এখন অহরহ নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। কেউ কেউ কেবলই ধর্ষণ, কেউ কেউ আবার ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হচ্ছেন। পাবলিক বাসে শ্লীলতাহানির ঘটনা তো খুবই সাধারণ। আর যদি ঘরের কথা বলি সেখানেও দেখা যাচ্ছে নারীরা পর্দার অন্তরালে প্রতিদিনই নিগৃহীত হচ্ছেন। এসব ঘটনা কখনো-সখনো প্রকাশ পায়, তবে বেশিরভাগই থেকে যায় অপ্রকাশিত। এসব নির্যাতনের কারণে অনেক নারীই তাদের লক্ষ্য থেকে ছিটকে যায়। টিকতে পারে না কোথাও। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তারা।

পাবলিক পরিবহন মানেই যেন নারীদের কাছে এক আতঙ্ক, অজানা শঙ্কা। পাবলিক পরিবহনে যাতায়াতকারী প্রত্যেক নারীর কম-বেশি হ্যারাজমেন্টের অভিজ্ঞতা আছে। পাবলিক পরিবহনে মেয়েদের হ্যারাজমেন্টের মূল কারণ হলো প্রথমত মেয়েদের প্রতি পুরুষের নিচু দৃষ্টিভঙ্গি, জীবনমান উন্নয়নে নারীর ভূমিকা বা নারীর স্বনির্ভরতা অন্য দৃষ্টিতে দেখা, নৈতিক অধঃপতন, যথাযথ পারিবারিক শিক্ষার অভাব এবং কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা, মেয়েদের নমনীয় আচরণ। এখনো অনেক নারী আছে যারা প্রতিবাদ করেন না কিংবা করতে পারেন না। এমনকি নিকটজনের কাছে শেয়ার করতেও ভয় পান তথাকথিত আত্মসম্মানের ভয়ে। এই সমস্যার সমাধান করতে হলে প্রথমত ভুক্তভোগী প্রত্যেক নারীকে এগিয়ে আসতে হবে, প্রত্যেক মা-বাবার উচিত হবে তাদের সন্তানের হ্যারাজমেন্টের ঘটনাগুলো শুনা এবং তা প্রতিকারে এগিয়ে আসা। এছাড়াও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে, নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে হবে। সর্বোপরি এ বিষয়ে সরকারকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাবলিক পরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে তাদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস তৈরি করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ ‘দোলনচাঁপা’ বাসের কথা বলতে পারি। দোলনচাঁপা বাস নারীর জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। এই বাসের চালক ছাড়া বাকি সবাই নারী। এমনকি চালকের সহকারীও একজন নারী। বর্তমানে এই বাস নারীদের কাছে এক স্বস্তির নাম। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারকে এই ধরনের আরো নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে। এমনটি করা হলে কিছুটা হলেও নারীর  নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনেকরি।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়