খুলনায় ভাড়াটে খুনি ও অস্ত্রধারীদের সন্ধানে মাঠে র্যাব পুলিশ

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪৬

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতা সৃষ্টি ও রাজনৈতিক হত্যাকান্ড প্রতিরোধে খুলনার অর্ধশতাধিক ভাড়াটে খুনির সন্ধানে মাঠে নেমেছে পুলিশ ও র্যাব। বিভিন্ন সময় অবৈধ অস্ত্রধারী এসব চিহ্নিত অপরাধীদের হাতে রাজনৈতিক নেতাসহ ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। বেশ আগে থেকে এদের গ্রেফতারে কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাদের ওপর নজরদারি আরো বৃদ্ধি করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

জেলা পুলিশ ও কেএমপি সূত্র জানায়, খুলনা মহানগর ও জেলায় বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক হত্যাকান্ডে অংশ নেয়া ভাড়াটে খুনিদের তালিকা নিয়ে মাঠে কাজ শুরু হয়েছে। তালিকায় বেশ কিছু নিষিদ্ধ সংগঠনের আত্মগোপনে থাকা সদস্য রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের নামে রয়েছে ৫/৬টি করে হত্যা মামলা। গত ২০ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর দৌলতপুরের কার্তিককুল এলাকার বৌবাজার সংলগ্ন মালুর মাঠে দু’দল সন্ত্রাসীদের  গোলাগুলির ঘটনায় দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের আব্দুল গফফার শেখের ছেলে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মিরাজুল ইসলাম মারুফ ওরফে গরু মারুফ নিহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, একটি রিভলবার ও ৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। মারুফ দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা গাজী আব্দুল হালিম ও দৌলতপুরের হোজি শহীদসহ একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য মামলার আসামি ছিলেন ।

২০১৭ সালের ২৫ মে রাত সোয়া ৯টার দিকে ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিত ৪ সন্ত্রাসী ফুলতলা উপজেলার দামোদর এলাকার খুলনা-যশোর রোডের নিজস্ব অফিসে ঢুকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠুকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তার দেহরক্ষী  নওশের গাজীও নিহত হন। মিঠু হত্যাকান্ডে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে ভাড়াটে খুনি ও চরমপন্থিদের নাম।  ২০১৭ সালের গত ৯ মে রাতে দৌলতপুর আঞ্জুমান সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন ৫নম্বর ওয়ার্ড ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি শেখ ইকবাল সরোয়ার। ২০ মে দৌলতপুরে ছাত্রদল নেতা শিপলু মোল্লা, ১৪ জুন রায়েরমহল এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেন মোল্লা নিহত হন। 

পুলিশ জানায়, খুলনায় বিভিন্ন সময় একাধিক রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযুক্তরা রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিতে। সন্ত্রাসী তালিকায় নগরীর বেশ কয়েকজন ভাড়াটে খুনির নামও রয়েছে। তারা অধিকাংশ সময় আত্মগোপনে থাকে। গোয়েন্দা পুলিশ তাদের ওপর নজরদারি রেখেছে।

খুলনার পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ জানান, কিছু অসাধু মানুষ উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ভাড়াটে অবৈধ অস্ত্রধারী খুনিদের ব্যবহার করে থাকেন। ইতোপূর্বে এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। ওই সকল বিষয় মাথায় রেখে তালিকাভুক্ত খুনিদের তালিকা হাতে নিয়ে মাঠে কাজ করছে জেলা পুলিশ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে যাতে এরা কোন অঘটন না ঘটাতে পারে সে বিষয়ে সজাগ রয়েছে জেলা পুলিশ।  

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতা ও হত্যাকান্ডসহ জনমনে ভীতি সৃষ্টির জন্য আত্মগোপনে থাকা চরমপন্থি দলের সন্ত্রাসীরা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা টিম মাঠে কাজ করছে। এছাড়া কেএমপির তালিকায় অবৈধ অস্ত্রধারী ও ভাড়াটে খুনিদের বিষয়ে কঠোর নজরদারি রয়েছে বলেও জানান তিনি।