স্বরূপকাঠির কালিবাড়ি খালে জমে উঠছে তরমুজের ভাসমান হাট

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪৫

মো. হালিমুর রহমান শাহিন, স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

স্বরূপকাঠির মিয়ারহাট বন্দর সংলগ্ন কালিবাড়ি খালে জমে উঠছে তরমুজের ভাসমান হাট। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় উত্পাদিত রসালো সুস্বাদু মৌসুমি ফল তরমুজ বিক্রির এটি অন্যতম মোকাম। প্রতি সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার বসে এ ভাসমান তরমুজের হাট। দক্ষিণাঞ্চলের তরমুজ চাষিরা ও এখানকার একশ্রেণির ব্যবসায়ীরা কলাপাড়া, মহিপুর, মুন্সিরহাট, কুয়াকাটা, রাংগাবালি, গোলখালী, চেংরাতলা, তালতলী, গলাচিপা, গাজীপুর, সোনাখালী, ধানখালী, বাদুরা, কুকুয়া, বাংলাবাজার, নলুয়াবাগি, কালাইয়াসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে তরমুজ কিনে এনে এ হাটে বিক্রি করে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি এলাকার চাষি মেহেদি হাসান, ভোলা সদরের চাষি মোসলে উদ্দিনসহ কয়েকজন চাষি ইত্তেফাককে জানান, দক্ষিণাঞ্চলে এবার বৃষ্টির কারণে তরমুজের ফলন কম হয়েছে। আকারে ছোট এবং দামও তুলনামূলক কম। তরমুজের ফলন ও দাম কম। কিন্তু উত্পাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন চাষিরা। তরমুজের ভাসমান হাটে ট্রলারে ট্রলারে বিভিন্ন জাতের ছোট-বড় সাইজের তরমুজের পসরা বসে। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের তরমুজ ওঠে এ ভাসমান হাটে। বড় সাইজের একশ তরমুজ ১০/১১ হাজার টাকা, মাঝারি সাইজের তরমুজ পাঁচ/ছয় হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের তরমুজ এক/তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহে দুই হাটে প্রায় ৪৫/৫০ লক্ষ টাকার তরমুজ পাইকারিভাবে বিক্রি হয় বলে ব্যবসায়ী সূত্র জানায়।

এ মোকাম থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তরমুজ চালান দেওয়া হয়। বিগতদিনে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক চাষিরা বিক্রির উদেশ্যে তরমুজ ভর্তি ট্রলার নিয়ে স্বরূপকাঠির মিয়ারহাট বন্দরে আসতো। বর্তমানে ঐ অঞ্চলের সামান্য সংখ্যক চাষি ও স্বরূপকাঠিসহ পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলার অনেক ব্যবসায়ীরা এ মৌসুমে ঐ সমস্ত অঞ্চল থেকে ক্ষেতমুলে তরমুজ ক্রয় করে স্বরূপকাঠির এ মোকামে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এখান থেকে ট্রাক, লঞ্চ, ট্রলারযোগে রাজধানী ঢাকা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তরমুজ চালান দেওয়া হয়।

অপরদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা পাইকারিভাবে এ মোকাম থেকে তরমুজ ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। এদিকে তরমুজের এ মৌসুমে এখানকার এক শ্রেণির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এ হাট থেকে তরমুজ কিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারসহ গাঁওগ্রামে ভ্যানে, নৌকায় করে তরমুজ বিক্রি করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে।