ত্রিশালে অপরিকল্পিতভাবে ফিশারি খনন করার ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার প্রায় ১০ একর জমিতে এ বছর আবাদ করতে পারেননি কৃষকরা।
জানা যায়, প্রাচীনকাল থেকেই বইলর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া ও হিন্দুপল্লী গ্রামের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি খাল থাকলেও কতিপয় ব্যক্তি ফিশারি খনন করে খালের দুই পাশ বন্ধ করে দেন। পানি নিষ্কাশনের ওই খালটি গত এক বছর যাবত্ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে প্রায় ১০ একর জমিতে কোনো প্রকার চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা। বর্ষার পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া ওই গ্রামের কৃষিনির্ভর কয়েকটি পরিবারের ওইটুকু জমিই একমাত্র সম্বল। ফসল ফলাতে না পেরে দরিদ্র ওই কৃষি পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে ভাতের অভাব। দ্রুত খালটি খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি ভুক্তভোগী কৃষকসহ এলাকাবাসীর। এ সময় একমাত্র সম্বল ৫০ শতাংশ কৃষি জমির মালিক কৃষক বাদশা মিয়া ভেজা চোখে আক্ষেপ করে বলেন, ‘ফসল করবার না পাইরা গোষ্ঠী খাওন বেগারে মরতাছে’।
হিন্দুপল্লী গ্রামের কৃষক মমতাজ উদ্দিন বাচ্চু বলেন, আমাদের প্রায় চার একর জমির পুরোটাই পানির নীচে। অভাবের সংসার, ধান করতে না পাইরা দুই বেলা ঠিকমত ভাতই জোটে না।
এছাড়া কৃষক মিজানুর রহমান, আবদুল খালেক, প্রফুল্ল চন্দ্র তিলকদারসহ অন্য কৃষকরা জানান, জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে প্রায় ১০ একর জমি পতিত পড়ে আছে।
এ ব্যাপারে একজন ফিশারি মালিকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার জমিতে আমি ফিশারি করেছি এতে সমস্যা কি আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল জানান, বিষয়টি জানতে পেরে সমস্যা সমাধানে আমরা বর্ষা মৌসুমে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বড় ধরনের ওই সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আমরা আবারও বিষয়টি সমাধানে ঘটনাস্থলে যাব।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু জাফর রিপন বলেন, বিষয়টি অবগত হয়ে কৃষি বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। পানি নিষ্কাশনের সমাধান না হলে ফিশারি মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
