জয়পুরহাট প্রতিনিধি
মানুষের সেবার পাশাপাশি পিতামাতার সংসারে অভাব দূর করবেন আশা নিয়ে নার্স হওয়ার স্বপ্ন দেখেন শারমিন আকতার। সেই আশা পূরণ হতে দিল না ঘাতক বাস। শুধু শারমিনের স্বপ্ন নয়, এই দুর্ঘটনায় ভেঙে গেছে শারমিনের অসহায় পুরো পরিবারের স্বপ্ন। জয়পুরহাট নার্সিং ইনস্টিটিউটের ২০১৮-২০১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন আকতার (১৯) জয়পুরহাটে শুক্রবারের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আটজনের একজন। বড়ো বোন জবা খাতুন (২৪) এ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বর্তমানে জেলা আধুনিক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
আহত জবা খাতুন জানান, ছোট বোন শারমিন আকতারকে জয়পুরহাট নার্সিং ইনস্টিটিউটে রাখার জন্য আসছিলেন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার আমবাড়ী গ্রাম থেকে বগুড়ার মোকামতলায় এসে ওই বাসে ওঠেন তারা দু’জন। বগুড়া-জয়পুরহাট সড়কের বানিয়াপাড়া এলাকার ভূতগাড়ী নামক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পাশের খাদে উল্টে গেলে শারমিন আকতারসহ আটজনের মৃত্যু ও ২৮ জন আহত হয়। এখানেই থেমে যায় শারমিন আকতারের নার্স হওয়ার স্বপ্ন। নিম্ন আয়ের সংসারে যখন লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমশিম পিতা আব্দুল জলিল। তখন নার্সিংয়ে ভর্তি হন শারমিন। স্বপ্ন ছিল নার্সিংয়ে চাকরি করে পিতামাতার মুখে হাসি ফোটাবেন। পরিবারের এই স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই হয়ে রইলো। সেই আশা চিরতরের জন্য কেড়ে নিয়েছে ঘাতক বাস। শারমিনের লাশ নিতে আশা মা সালেহা বেগম বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ সময় সহপাঠী নার্সরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। সাব-ইন্সপেক্টর আমিনুর রহমান বাদী হয়ে রাতেই বাসের চালক, হেলপার, মালিক ও সুপারভাইজারকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোনিয়া বিনতে তাবিব আহ্বায়ক এবং সদস্য হচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায়। সাত কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
