চট্টগ্রাম ঠিক মুমিনুল হকের ‘হোম’ নয়। আরো প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে, বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন শহর কক্সবাজারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মুমিনুল হকের। বিভাগীয় বিবেচনায় তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের মানুষ বলে জোর করে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামকে মুমিনুলের হোম গ্রাউন্ড বলে চালিয়ে দেওয়া যায়।
মুমিনুল হোম গ্রাউন্ড বিষয়ক এই আলোচনা শুনে একটু হাসলেন, ‘যে যেভাবে দেখে। যেহেতু চট্টগ্রাম বিভাগের ছেলে, তাই এটাকে হোম বলতে পারেন। সে জন্যই হয়ত এখানে রানটা বেশি পাই।’ ‘বেশি’ বলে ঠিক বোঝানো যাবে না, কী হারে রান করছেন তিনি এই হোম গ্রাউন্ডে। এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৭টি ম্যাচ খেলেছেন। তাতে ৮৬.৯০ গড়ে ৮৬৯ রান করেছেন মুমিনুল। এই স্টেডিয়ামে ৫ বার পঞ্চাশ পার করেছেন; প্রতিবারই সেঞ্চুরি করেছেন।
চট্টগ্রামের এই রানপ্রসবিনী স্টেডিয়াম ছেড়ে এবার ঢাকায় ফিরেছেন মুমিনুলরা। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। চট্টগ্রাম টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করে ফেরা মুমিনুল আশাবাদী যে, এই ফর্মটা তিনি ও তার দল ধরে রাখতে পারবেন ঢাকাতেও। নিজেকে নিয়ে কখনোই বড় বড় কথা বলা মানুষ নন মুমিনুল। তাই সতীর্থদের মিলিয়ে বললেন, ‘আমরা ভালো করছি এখন। আমি রান পেয়েছি বলে ভালো লাগছে, আত্মবিশ্বাসটা ভালো আছে। দলের সবাই ভালো ফর্মে আছে। ঢাকায়ও আমরা সেটা ধরে রাখতে চাই। আমার বিশ্বাস, ঢাকাতেও আমরা ভালো করব।’
এই বিশ্বাসটার একটা কারণ আছে। মুমিনুল বলছেন, তার ইদানীং মনে হচ্ছে, ব্যাটে রান পাওয়ার জন্য খুব জরুরি হলো আত্মবিশ্বাসটা ভালো রাখা। এই ব্যাপারটা গত টেস্টেই তার খুব কাজে দিয়েছে বলে বিশ্বাস এই লিটল মাস্টারের। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার কথা বলতে গিয়ে বলছিলেন, ‘আগে আমি কখনো কখনো একটু ডিফেন্সিভ হয়ে যেতাম। ভাবতাম, পারব কিনা। মনে সংশয় ঢুকত। এখন একটা ব্যাপার বুঝেছি, রান করতে চাইলে নিজের ওপর বিশ্বাসটা রাখতে হবে। মনে করতে হবে, আমি পারব। সেটা করলে রোজ হয়ত হবে না। কিন্তু প্রায়ই ভালো ফলাফল আসবে।’
এই মানসিক ব্যাপারটাই শেষ কথা নয়। মুমিনুলের মাঝে সময়টা খুব ভালো যাচ্ছিল না। বিশেষ করে অপ্রত্যাশিতভাবে অফস্পিনের বিপক্ষে তার একটু দুর্বলতা চাউর হয়ে যায় এর মাঝে। তিনিও ঠিক সুবিধে করতে পারছিলেন না স্পিনে। এই সময় বেশকিছু কাজ করেছেন মুমিনুল নিজের গুরু মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে।
সালাউদ্দিন বলেছেন, তেমন বড় কোনো কাজ নয়। শুধু স্পিনের বিপক্ষে মুমিনুলের প্রাথমিক নড়াচড়াটা ঠিক করা হয়েছে। মুমিনুল পুরো খুলে বলতে চাইলেন না কী করেছেন। তবে বললেন, ‘কিছু কাজ করেছি। ফ্রন্ট ফুট, ব্যাক ফুটে কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট করেছি। তবে একটা সিরিজের পরই এটা বলে দিতে চাচ্ছি না। আরো কিছুদিন যাক। সবটা খুলে বলব। টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো একটু ধীরে বলাই ভালো।’
আমরা সেই ধীরে বলার অপেক্ষায় রইলাম। তার আগ পর্যন্ত মুমিনুলের কাছ থেকে স্রেফ রানই আশা করা যাক। দেশের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে যে খ্যাতি পেয়েছেন, সেটা ছড়িয়ে পড়ুক সব ফরম্যাটে।
ইত্তেফাক/কেআই
