মির্জাপুরে নদী ও বনাঞ্চলের মাটি যাচ্ছে ইটভাটা বাসাবাড়ি ও পুকুর-ডোবা-নালা ভরাট কাজে!

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২০

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

মির্জাপুরে একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে নদীর আশ-পাশ (নদীর চর) এবং সরকারি বনাঞ্চল থেকে টিলা কেটে মাটি চুরির হিড়িক পড়েছে। চুরি হওয়া মাটি যাচ্ছে ইটভাটা, পুকুর ও ডোবা-নালা ভরাট ও বাসাবাড়ি তৈরির কাজে। অবাধে মাটি কাটার ফলে এলাকার রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি এলাকার পরিবেশও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফতেপুর এলাকার মো. ইব্রাহিম মিয়া, চাকলেশ্বর এলাকার মাধব চন্দ্র সরকার ও হাঁটুভাঙ্গা এলাকার ইমান আলীসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বংশাই নদীর পারদিঘী, হাটফতেপুর, হিলড়া আদাবাড়ি, থলপাড়া, ঘোনাপাড়া, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, গাড়াইল, হাতেম টাউন, কুমারজানি, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটা, কোদালিয়া, হাঁটুভাঙ্গা, আজগানা এলাকায় নদীর আশ-পাশ ও নদীর বুকে (চরে) ভেক্যু বসিয়ে প্রতিদিন শতশত ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। একইভাবে লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া চরপাড়া, গুনটিয়া ব্রিজ, চুকুরিয়া, উফুলকী, বরাটি, ইচাইল, পুষ্টকামুরী, দেওহাটা, বহুরিয়া, গেরামারা, কামারপাড়া, ওয়ার্শি, নাগরপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটার হিড়িক চলছে। নদীতে মাটি চুরির পাশাপাশি ভূমিদস্যুরা এখন গোড়াই, তরফপুর, আজগানা ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের সরকারি বনাঞ্চলের টিলার লাল মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সাপ্লাই দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পাহাড়ি এলাকা ও নদীর বুকে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক দিয়ে নেওয়ার ফলে এলাকার রাস্তা-ঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর চর ও সরকারি বনাঞ্চলের টিলার মাটি কাটা বন্ধসহ ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজগর হোসেন বলেন, ‘এলাকার রাস্তা-ঘাট, পাহাড় ও নদ-নদী জাতীয় সম্পদ। এগুলো রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। পাহাড়ের টিলা ও নদীর আশ-পাশে যারা মাটি কেটে নিচ্ছে, তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আগামীতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’