হতাশ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
মহসিন মিয়া, খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনার হাওরদ্বীপ খালিয়াজুরীতে বোরো ক্ষেতে চিটা দেখা দেওয়ায় শতকরা ৩০ ভাগ বোরো ফসলের ভেতর চাল নেই। কোল্ড ইনজুরির (ঠাণ্ডাজনিত রোগ) কারণে ধানের মাঝে চালের দানা না বেঁধে এ ফসল নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা এখন হতাশায় নিমজ্জিত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ে ধুম লাগার এ সময়টিতে কোনো আমেজ নেই। ধানে চিটা থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কপালে আছে চিন্তার ভাঁজ। কিছুদিন পূর্বে যে কৃষক সোনার ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। তারা এখন হতাশ।
খালিয়াজুরী সদরের কৃষক কাচু মিয়া জানান, তিনি ৮ একর জমিতে ব্রি ধান-২৮ মাড়াই করে ৮০ মণ ধান পেয়েছেন। অথচ ধানে চিটা না হয়ে স্বাভাবিক ফলন হলে তার এ জমিতে কমপক্ষে ৩৬০ মণ থেকে ৪০০ মণ ধান উত্পাদিত হতো।
একই গ্রামের মো. রাজু মিয়া বলেন, ২০ একর জমিতে তিনি বোরো আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে চিটায় ক্ষতি হয়েছে ১১ একর জমি। ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ ফসল চিটায় নষ্ট হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, জমিতে ধানের প্রজনন পর্যায়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার প্রয়োজন ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। কিন্তু চলতি বোরো মৌসুমে ধানের প্রজননের ওই সময়টিতে তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডেরও নিচে। প্রয়োজনীয় সময়ে তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত কম থাকায় ধানের মধ্যে ঠিকমত দানা গঠন হয়নি। এর ফলে অনেক জমিতে চিটা (ফাঁকা ধান) হয়েছে। এ সমস্যাটিকে বলা হয় কোল্ড ইনজুরি বা ঠাণ্ডাজনিত রোগ। নষ্ট হয়েছে আবাদ করা ফসলের শতকরা ৯ ভাগ।
খালিয়াজুরী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া জব্বার বলেন, ‘সমস্যা যেন এখানকার কৃষকের পিছু ছাড়ছে না’। বিগত ১৫ বছরে এখানে অকাল বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও রোগ বালাইয়ে ফসল নষ্ট হয়েছে ৯ বার। এবার ক্ষতি হলো চিটায়। একমাত্র বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল এ হাওর পাড়ের চিটায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।
গফরগাঁওয়ে পাকা ধানে ব্লাস্ট রোগ
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, গফরগাঁওয়ের বেশ কয়েকটি স্থানে আধা পাকা ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন ফসলের মাঠে দেখা গেছে, ধান গাছগুলো পেকে সোনালী রঙ ধারণ করেছে। কিন্তু কাছে গেলেই চোখ কপালে উঠে যায়, পাকা নয়, ধান গাছগুলো যেনো পুড়ে ঝলসে গেছে। গাছের সব ধানের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। উপজেলায় বোরো বাম্পার ফলনের মুখে শেষ মুহূর্তে ব্লাষ্ট নামক ছত্রাকের আক্রমণে অনেক কৃষকের মুখের হাসি একরকম ম্লান করে দিয়েছে। ‘নেক ব্লাস্ট’ বা ঘাড় পচা রোগের কারণেই এমনটি হচ্ছে বলছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলার উথুরী গ্রামের কবির মিয়া বলেন, ৭৫ শতাংশ জমিতে বোরো আবাদ করেছি। এই জমিতে বোরো ধান চাষ করতে চাষ, সেচ, বীজ রোপণ, সার ও শ্রমিকের মজুরিসহ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ক্ষেতের ধানও আধা পাকা হয়ে গেছে। কিন্তু চার/পাঁচদিন যাবত্ ধানের শীষ শুকিয়ে ভেতরে চিটা হয়ে যাচ্ছে। প্রথমে দুই/একটি ধানের শীষে এ রকম সমস্যা দেখা দেয়। পরের দিন ক্ষেতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ ধানের শীষ চিটা হয়ে গেছে।
