রংপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ১০

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:৩২
 
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের উদ্যাগে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে বিএনপি ককটেল নিক্ষেপ করলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষে বেঁধে যায়। এতে উভয় পক্ষের ১০জন আহত হয়েছেন।
 
জানা যায়, বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ অন্যদের সাজা ঘোষণার পর রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় ও রংপুর প্রেসক্লাব থেকে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জাহাজ কোম্পানি মোড়ে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কয়েক রাউন্ট টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। পরে আওয়ামী লীগের আরও নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া করলে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০জন আহত হয়। ঘটনার পর পরই ওই এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
 
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের খুঁজতে জিএল রায় রোর্ডের বিভিন্ন অলিগলিতে যায়। এ সময় জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্স ও একটি মাইক্রোবাসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় রংপুর মহানগরীতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
 
বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাহাজ কোম্পানি ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশের জলকামান যানবাহনও সেখানে নিয়ে আসা হয়।
 
এ রিপোর্ট পাঠানোর সময় পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল করছিল। নগরীর অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এদিকে সকাল থেকেই রংপুর থেকে দুরপাল্লার সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। মহানগরীর প্রধান সড়কসহ পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাট প্রায়ই যানবাহন শূন্য। নগরবাসীর মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
 
রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, মহানগর সভাপতি সফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হলো আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়।
 
অপরদিকে সারাদিন দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা রায়ের পর কার্যালয় ছেড়ে চলে যায়। এ সময় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহানগর সভাপতি মোজাফফর হোসেন জানান, মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে বাহিরে রাখার ষড়যন্ত্র হিসেবে এই রায় দেয়া হয়েছে। সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ায় তিনি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম মিজু, রইচ আহমেদ, যুবদল নেতা নাজমুল আলম নাজু, সামছুল হক ঝন্টু, মাহফুজ-উন-নবী ডন, জহির আলম নয়ন, ছাত্রদল নেতা মনিরুজ্জামান হিযবুল, জিল্লুর রহমান জেমস প্রমুখ।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি