বখাটেদের উত্পাতে অতিষ্ঠ দুই স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা!

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৭

বখাটেদের নিপীড়ন ও উত্পাত সহ্য করতে না পেরে গাজীপুর ও বরিশালে দুই স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার। এসব ঘটনায় গত শুক্রবার সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা ও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে গতকাল শনিবার পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আত্মহত্যার আগে চিরকুট লিখে যায় লিয়া

মুলাদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছে স্থানীয় এবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী লিয়া আক্তার। গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের আলিমাবাদ রামচর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সে। লিয়া  গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম সরদারের মেয়ে।

ছাত্রীর মা মাহফুজা বেগম জানান, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে আলিমাবাদ গ্রামের রোমান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে লিয়াকে কু-প্রস্তাবসহ বিভিন্ন ভাবে নিপীড়ন করে আসছিলো। বখাটেরা প্রায়ই তাদের মোবাইলে ফোন দিয়ে লিয়ার সঙ্গে কথা বলতে চাইতো। ফোন করতে নিষেধ করলে বখাটেরা তাকে ও তার মেয়েকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতো। ঘটনার দিন বিকালে লিয়া স্কুল থেকে ফিরে কান্নাকাটি শুরু করে। এসময় কারণ জানতে চাইলে সে কোনো কথা বলেনি। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মাহফুজা বেগম কাজে বাইরে যান। ফিরে এসে লিয়াকে ঘরের ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এসময়ে তিনি লিয়ার পড়ার টেবিল থেকে আত্মহত্যার একটি চিরকুট উদ্ধার করেন। চিরকুটে লেখা ছিলো: ‘আজকে আমাকে একজনে একটা খারাপ কথা বলেছে, শুধু আমাকেই নয়, আমার আপুকেও বলেছে। কথাটা মিথ্যা তাই মানতে পারি না। তাই আমি পৃথিবী থেকে অনেক দূরে চলে গেলাম। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’

বুধবার এ ঘটনা ঘটলেও লিয়ার মা গত শুক্রবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি সবাই জানতে পারেন। রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লিয়াকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ওসি জিয়াউল আহসান জানান, স্কুলছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রোমনকে আটক করা হয়েছিলো। জিজ্ঞাসাবাদে লিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে রোমানের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন রামচর গ্রামের রাজ্জাক সরদারের পুত্র বিপ্লবকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে আটক করলেই অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, লিয়ার চাচাতো ভাই বিপ্লব সরদার দীর্ঘ দিন ধরে লিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। কিন্তু লিয়া কিছুতেই বিয়েতে রাজি হচ্ছিল না। লিয়ার ঝুলন্ত লাশ পাওয়ার পর থেকে বিপ্লব আত্মগোপনে রয়েছেন।

ক্ষোভে-অপমানে গলায় ফাঁস দিল শিমলা

শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, বখাটেদের অপমান সইতে না পেরে রাজেন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী শিমলা রানী দাস (১৪) আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় মামলা করেছেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সাটিয়াবড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিমলা কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকার নৃত্তানন্দ ঋষিদাসের মেয়ে। সে বাবা-মা ও ছোট দুই ভাই-বোনের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাটিয়াবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকতো। শিমলার বাবা জুতা সেলাই করেন ও মা স্থানীয় ডার্ড নিট কম্পোজিট কারখানার কর্মী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, স্কুলে যেতে আসতে প্রায়ই এলাকার রাজ কুমার চন্দ্র মানিক ও রিপন চন্দ্র মনিদাস শিমলাকে উত্ত্যক্ত করতো। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে পূজা চলার সময় তাকে অপবাদ দিয়ে অপমানজনক কথা বলে ওই দুজন। রাতে শিমলা অনেক কান্নাকাটি করে। পরদিন বাবা-মা কাজে চলে যাওয়ার পর অপমান সহ্য করতে না পেরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।