কথা বলতে অ্যাপের ব্যবহার বাড়ছে

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৫০

ইন্টারনেটে সবসময় অ্যাকটিভ থাকেন সাইমুম সামি। পড়ছেন রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইন্টারনেটভিত্তিক কাজের পাশাপাশি কথা বলার জন্যও ব্যবহার করেন মোবাইল অ্যাপ। সাইমুম সামি জানালেন, ভয়েস কল এখন খুব কম করা হয়। কারণ সবসময় ইন্টারনেটে একটিভ থাকা হয়। কথা বলার প্রয়োজন হলে মেসেঞ্জারসহ অন্য অ্যাপগুলো বেশি ব্যবহার করি। দেখা যায়, সচরাচর যাদের সঙ্গে কথা বলতে হয়, তারা প্রায় সবাই আমার ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় আছেন। তারাও ইন্টারনেটে একটিভ থাকেন। ফলে মেসেঞ্জারে কল করলে অপর পাশ থেকে দ্রুত সারা পাওয়া যায়। এজন্য কথা বলার জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপগুলো ব্যবহারে দিন দিন অভ্যস্ত হয়ে উঠছি। 

তবে বেসরকারি চাকরিজীবী রায়হান উদ্দিন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, মাস শেষে  আমাদের মাপা মাইনে। তাই আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ব্যয় করতে হয়। মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য আগে যে টাকা ব্যয় করতাম এখনো সেটাই করছি। শুধু কথা বলা কমিয়ে দিয়েছি। যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপ বেশি ব্যবহার করছি।

মানুষের হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন। যার হাতে আছে স্মার্টফোন, তার কাছেই আছে ফেসবুক,  মেসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার, ইমো প্রভৃতি ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। স্মার্টফোন এসব অ্যাপের ব্যবহার মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে এসেছে। কারণ স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সাথে জনপ্রিয়তা বেড়েছে এসব অ্যাপের। এসএমএস প্রেরণের পাশাপাশি সরাসরি কথা বলার জন্যও অ্যাপ ব্যবহার করছেন অনেকে। বিশেষ করে, বিদেশে কথা বলতে এখন অ্যাপের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। কারণ অ্যাপ ব্যবহার করে কথা বলতে খরচ কম হয়। এতে দেশের সাথে বাইরের যোগাযোগও বাড়ছে। তবে দেশের মধ্যেও তরুণরা অ্যাপ ব্যবহার করে দৈনন্দিন যোগাযোগের কাজ সারছেন। অ্যাপগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তরুণদের কাছে।

বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫ কোটির বেশি। এদের একটা বড় অংশই বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। আর তাই দিন দিন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ বছরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। ২০০৮ সালে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৮ সালের জুনে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজারে। অর্থাত্ বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে ২০১৪ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত চার বছরে দেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে চার কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪৯ জন।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচ বাড়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যোগাযোগ ও কথা বলার জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপগুলোতে বেশি ঝুঁকছে। বিটিসিএল সূত্র জানায়, চলতি বছর ঈদুল ফিতরের সময় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সরাসরি বিদেশ থেকে আসা ভয়েস কলের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ কম ছিল।

প্রযুক্তিবিদরা মনে করছেন, সরাসরি ভয়েস কলের ব্যবহার কমিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগে ঝুঁকছে তরুণরা। সারাদেশে ইন্টারনেটের সহজ বিস্তৃতির কারণে ডাটা ব্যবহার করেই কথা বলতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন অনেকে। ফলে কমছে ভয়েস কলের ব্যবহার। ভবিষ্যতে সরাসরি ভয়েস কলের ব্যবহার আরো কমে আসবে। প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির জানান, উন্নত বিশ্বে এরই মধ্যে সরাসরি ভয়েস কল প্রায় বিলুপ্তির পথে। ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশও সে পথেই এগিয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।