ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করছে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:১৪
 
ঢাকা টেস্টে দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনেই শেরেবাংলা উইকেটের গহ্বরে হারিয়ে গেছে ১৪ উইকেট। স্পষ্ট ইঙ্গিত, ম্যাচটা পঞ্চম দিনে যাচ্ছে না। কিন্তু দিন শেষে ৫৬ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ কি লিড নিতে পারবে?
 
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপির মতে, এমন উইকেটে লিড নেয়া কঠিন হবে বাংলাদেশের জন্য। শ্রীলঙ্কা দলের লিয়াজোঁ হিসেবে কাজ করা অপি মনে করেন, দুইশ রান করতে পারলে ম্যাচে থাকবে বাংলাদেশ। বোলিংয়ে ১১০ রানে ছয় উইকেট ফেলার পরও শ্রীলঙ্কার দুইশ’ পার হওয়াটাই চাপ হতে পারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের জন্য।
 
বাংলাদেশের পক্ষে দিনের উজ্জ্বল পারফরমার আব্দুর রাজ্জাক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট খুব অযোগ্য ছিল না। দুটি উইকেট বেশি হারালেও এ অবস্থা থেকে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে বলেই বিশ্বাস চার বছর পর টেস্ট দলে ফেরা এ বাঁহাতি স্পিনারের।
 
রাজ্জাক-তাইজুলের ঘূর্ণির সঙ্গে মুস্তাফিজের বোলিং তোপে ২২২ রানে অলআউট হয়েছে শ্রীলঙ্কা। এর আগে টেস্টে শ্রীলঙ্কা কখনোই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আড়াইশো রানের নিচে অলআউট হয়নি। সর্বনিম্ন ২৯৩ রান করেছিল লঙ্কানরা ২০০৮ সালে মিরপুরে।
 
প্রথম দিন শেষে ১৬৬ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। লিটন দাস ২৪ ও মিরাজ ৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে রাজ্জাক বলেছেন, ‘একটা সেশনে একেক টাইপের খেলা হয়। দেখা যায় একটা সেশনে একটা দল এগিয়ে আছে, পরের সেশনে আবার অন্য দল। টেস্টে ক্ষতি পূরণ করে দেয়ার জায়গা থাকে। আমার মনে হয় আমাদের দুইটা উইকেট বেশি পড়ে গেছে। এটা কাটিয়ে উঠা সম্ভব সহজেই, আমার কাছে মনে হয়।’
 
উইকেট সম্পর্কে ৩৫ বছর বয়সী এ স্পিনারের মূল্যায়ন, ‘আজকের (গতকাল) দিনে ওরা যতক্ষণ ব্যাটিং করেছে বা আমরা করেছি, আমার কাছে খুব বেশি আনপ্লেয়েবল (খেলার অযোগ্য) উইকেট মনে হয়নি। আমার কাছে উইকেটটাকে স্পোর্টিং মনে হয়েছে। এ ধরনের টার্ন অনেক উইকেটে করে।’
 
ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসেও ব্যাট করতে হবে বাংলাদেশকে। সেটা কঠিন কর্ম হবে বিশ্বাস রাজ্জাকের। তিনি বলেন, ‘এখানে চারটা ইনিংসই হবে। সেটা না হলে তো আর ফলাফল হবে না! চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করা তো কঠিন। এখনকার চেয়ে কঠিন হবে।’
 
১১০ রানে ছয় উইকেট ফেলার পরও শ্রীলঙ্কাকে দুইশ রানের নিচে আটকে পারেনি বাংলাদেশ। ১৮ রানে দিলরুয়ান পেরেরাকে মুস্তাফিজের বলে স্লিপে জীবন দিয়েছিলেন সাব্বির। সেই দিলরুয়ানের ৩১, দেয়াল গড়া রোশেন সিলভার ৫৬, আকিলা ধনঞ্জয়ার ২০ রানের ইনিংসই শেষদিকে বোলারদের হতাশা উপহার দিয়েছে।
 
ব্যাটিংয়ে দলীয় চার রানেই তামিম-মুমিনুলের বিদায় চাপ বাড়ায় বাংলাদেশের। ইনিংসের তৃতীয় বলে তামিম রির্টান ক্যাচ দিলেও মুমিনুল রানআউট হয়েছেন ব্যাট মাটিতে না ছোঁয়ানোর শিশুতোষ ভুলে। নির্ভরতার প্রতীক মুশফিক হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন তার অফ স্ট্যাম্প কোথায়! টানা লাকমলের বল ছাড়তে ছাড়তে বোল্ড হন তিনি। দিন শেষের দুই ওভার আগে ইমরুলও ফিরে যান।
 
আজ দ্বিতীয় দিনের শুরুতে লিটন-মিরাজের মতো তরুণদেরই ব্যাট হাতে বড় দায়িত্ব পালন করতে হবে। কাজটা কঠিন হলেও ম্যাচের লাগাম পেতে প্রথম ইনিংসে লিড নিতেই হবে বাংলাদেশকে।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ