সুদানে সরে যেতে বাধ্য হলেন অভ্যুত্থানের নেতা

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৮

ইত্তেফাক ডেস্ক

সুদানের ৩০ বছরের শাসক ওমর আল-বশিরকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব নেয়ার একদিন পরই সরে যেতে বাধ্য হলেন অভ্যুত্থানের নেতা। স্থানীয় সময় শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ঘোষণায় পদত্যাগ করার কথা জানান সামরিক কাউন্সিলের প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আওয়াদ ইবনে আউফ। কিন্তু তারপরও বেসামরিক সরকার গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে সরকার কারফিউ প্রত্যাহার করেছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

ওমর আল-বশিরকে সরিয়ে সামরিক কাউন্সিলের প্রধান হয়েছিলেন আউফ। সামরিক বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আবদেলরহমান বুরহানকে তার উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়েছে। সামরিক কাউন্সিলের প্রধানকে বশিরের ঘনিষ্ঠ দাবি করে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোর পর এই পরিবর্তন এলো। একটি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা প্রধান সালেহ আব্দেল্লাহ মোহাম্মদ সালেহ ওরফে সালেহ ঘোষও পদত্যাগ করেছেন। এরপর গতকালই আবেদল ফাত্তাহ টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে বলেছেন, দুই বছরে সেনাবাহিনী শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং একটি নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে। কারফিউও প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তিনি সরকারকে সহায়তা করতে বিরোধীদের প্রতি আহবান জানান এবং বিক্ষোভের সময় হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেন। বেসরকারি মিডিয়া ‘সুদান নিউজ৩৬৫’ জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিরোধীরা। বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী সুদান প্রফেশনালস এসোসিয়েশন দ্রুত বেসামরিক সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে। বিরোধী সুদানিজ কংগ্রেস পার্টির নেতা ওমর আল দিগেইর বলেছেন, সেনাবাহিনী এককভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারে না।

সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা ক্ষমতায় থাকতে চায় না এবং সুদানের ভবিষ্যত্ নির্ধারিত হবে আন্দোলনকারীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। দারফুর সংঘাতের সময় ইবনে আউফ ছিলেন সুদানের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান। ওই যুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য বশিরকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তেল ও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া কয়েকমাসের বিক্ষোভের জের ধরে ওমর আল-বশিরকে সরে যেতে হয়েছে। আন্দোলন চলার সময় অন্তত ৩৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।