টাঙ্গাইলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৯

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ওই নারীকে শহরের একাধিক স্থানে নিয়ে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে বখাটেরা। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার ভোরে পৌর এলাকার চরজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে দুই বখাটেকে আটক ও ওই নারীকে উদ্ধার করে। সকালে ওই নারীকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের সাথে জড়িত আরো চারজনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে তিনজন শনিবার সন্ধ্যায় ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ জানায় ওই নারী মির্জাপুরের গোড়াইয়ে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার স্বামী ওই এলাকার একজন নির্মাণ শ্রমিক। গত শুক্রবার রাতে ওই নারী তার স্বামীকে নিয়ে কালিহাতীর পিত্রালয় থেকে মির্জাপুর কর্মস্থলে ফিরছিলেন। কালিহাতী থেকে সিএনজি অটোরিকশায় তারা রাত ১০টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসটার্মিনালে আসেন। এ সময় তিন বখাটে ওই নারীর স্বামীকে ডেকে নিয়ে বেদম মারপিট করে আটকে রাখে। অন্যদিকে দলের কয়েকজন ওই নারীকে জোরপূর্বক লেকের পাড়ে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তারা ওই নারীকে অপর বখাটেদের হাতে তুলে দেয়। তারা তাকে কোদালিয়া এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করে। ওই নারীর স্বামী রাত ১২টার দিকে বখাটেদের কবল থেকে কৌশলে পালিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গিয়ে ওসির কাছে ঘটনা খুলে বলেন। পরে পুলিশের চারটি দল শহরের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে নারীটিকে উদ্ধারসহ ধর্ষণের সাথে জড়িত অভিযোগে ৬জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে— শহরের কোদালিয়ার আলমগীর হোসেনের ছেলে ইউসুফ, আব্দুর রশিদের ছেলে রবিউল ইসলাম রবিন, ফজলু মিয়ার ছেলে মফিজ, রকিবুল ইসলামের ছেলে তানজিরুল ইসলাম তাছিন, দেওলার আবুল হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ও বিশ্বাস বেতকার বাদশা মিয়ার ছেলে ইমন।

টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি সায়েদুর রহমান জানান, পুলিশ ৬জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে ইউসুফ, রবিন ও মফিজ ধষর্েণর কথা স্বীকার করেছে। উজ্জল ও হাসান নামে তাদের দুই সহযোগীকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক নারায়ন চন্দ্র সাহা জানান, ভিকটিমকে পরীক্ষার জন্য গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. জাকিয়া সুলতানাকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গণধর্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে গতকাল দুপুরে ধর্ষিত ওই নারীর স্বামী গ্রেফতারকৃত ৬ জনসহ মোট আটজনকে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেছেন। তিনি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ মোশারফ হোসেন জানান, ছয় আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ধর্ষিত নারী ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন।