দেশের ফুটবলে একটা সময় ছিল শিরোপা লড়াইয়ে যুক্ত থাকতো মোহামেডান, আবাহনী। এখন তারা নিজেরাই সেই দৃশ্যপট থেকে অনেকটা সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয় মোহামেডান। কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নেয় আবাহনী। টেকেনি শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। আজ ফাইনালের মঞ্চে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম আবাহনী এবং ঢাকার দল আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ মুখোমুখি হবে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফাইনাল বিকাল চারটায়। বিটিভি ওয়ার্ল্ড খেলা সম্প্রচার করবে।
আরামবাগ কিংবা চট্টগ্রাম আবাহনী দর্শক নির্ভর কোনো দল নয়। চট্টগ্রাম আবাহনী যেন ঢাকার মাঠে অতিথি দল। ফাইনালের মঞ্চে ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে অতিথি দলকে উড়িয়ে দেয়ার কথা জানিয়েছে আরামবাগ। তাদের অফিস শোকেসে স্বাধীনতা কাপের অধরা ট্রফি সাজিয়ে রাখতে চায়। নিজেদের ফেভারিট বলে দাবি করেছে আরামবাগ কোচ একেএম মারুফুল হক। তারুণ্য নির্ভর দলটির মূল শক্তিই হচ্ছে ফিটনেস। জিপিএস সিস্টেমে খেলোয়াড়দের রানিং নিয়ে সন্তুষ্ট। যতটুকু দৌড়ানো প্রয়োজন সেটা সন্তোষজনক। চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর আশঙ্কা তার দলের খেলোয়াড়রা অবসাদগ্রস্ত ছিল। মিন্টু বললেন, ‘স্বাধীনতা কাপে যেভাবে খেলেছে তাতে আমি মনে করি তারা আজকের ফাইনালেও উতরে যাবে।’
আরামবাগ কোচ মারুফুল হক মনে করছেন তারা দল চ্যাম্পিয়ন হবে। তিনি বলেন, ‘আমার দল মানসিকভাবে অপরিপক্ক। তরুণ খেলোয়াড় বেশি। তবে ফাইনাল খেলাটা নেয়ার মতো মস্তিষ্ক আছে। আমরা প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পর্বে ভালো না করলেও দ্বিতীয় পর্বে ভালো করেছিলাম, ১৪ পয়েন্ট পেয়েছি। আর স্বাধীনতা কাপে যেভাবে খেলে আসছি তাতে চ্যাম্পিয়ন হতে পারবো।’
ফেডারেশন কাপ ফুটবলে তিন বার রানার্সআপ আরামবাগ। ওয়ানডে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন।
এবার তো স্বাধীনতা কাপে আরামবাগ গ্রুপপর্বে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়েই দিয়েছিল। জুয়েলের গোলে এগিয়ে ছিল আরামবাগ। খেলা শেষে যোগ হওয়া সময়ে সবুজের গোলে হার রক্ষা করে চট্টগ্রাম আবাহনী। সেই কথা ভুলেনি চট্টগ্রাম আবাহনী। কোয়ার্টার ফাইনালে আরামবাগ ৩-০ গোলে আবাহনীকে হারিয়ে বড় শিকার করে। সেমিফাইনালে শেখ জামালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে। বড় দল মারার অভিজ্ঞতা আছে আরামবাগের।
মারুফ নিজেদের ফেভারিট দাবি করায় প্রতিপক্ষ কোচ মিন্টুর কণ্ঠে ভিন্ন সুর, ‘আমি আমার দলকে পিছিয়ে রাখছি না। এখানে ফেভারিট কিংবা আন্ডারডগ কোনো ফ্যাক্টর না। ম্যাচে যারা ভালো খেলবে তারাই জিতবে।’
চট্টগ্রাম আবাহনীর বড় শক্তি জাতীয় দলের একাধিক ফুটবলার রয়েছে এখানে। কোচ মিন্টু বললেন, ‘এদেরকে শক্তিটা মেলে ধরতে হবে।’ এই দলের অধিনায়ক গোলকিপার আশরাফুল রানাও বলে গেলেন তাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের শক্তির কথা। সঙ্গে জুনিয়ররাও জুটি বাঁধবে শক্তিতে। মনে করিয়ে দিয়ে রানা বললেন, ‘গ্রুপ ম্যাচে আমাদের বিপক্ষে আরামবাগ ডমিনেট করে খেলেছিল। বলতে পারবো না ইজি জিতব। ফাইনালেও ফাইট হবে। যারা প্রমাণ করতে পারবে তারাই জিতবে আজ।’
চট্টগ্রাম আবাহনীর উইঙ্গার জাহিদ ইনজুরিতে, তিনি খেলবেন না। তারপরও দলের যারা আছেন তারা ১২০ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করার ক্ষমতা রাখেন বলে জানালেন সাবেক ফুটবলার মিন্টু।
ইত্তেফাক/কেআই
