সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বরাদ্দ করা ১২ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হলেও আসেনি যন্ত্রপাতি। এসব যন্ত্রাংশ সদর হাসপাতালের যেসব কর্মকর্তা (সার্ভে কমিটি) গ্রহণ করেছেন তারাও বিষয়টি জানেন না বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের স্বাক্ষর জাল করে এসব যন্ত্রাংশ বুঝে পাওয়ার স্বীকৃতিপত্র দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। গত মঙ্গলবার সকালে উপ-সচিব হাছাম মাহমুদসহ ৩ সদস্যের একটি টিম সাতক্ষীরায় এসে হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার ভারি যন্ত্রাংশ দেখতে চাইলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তিন সদস্যের একটি টিম সদর হাসপাতালে আসে। তারা জানান, বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বরাদ্দ করা ১২ কোটি টাকায় ভারি যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সেই টেন্ডার অনুযায়ী ঢাকার মার্কেন্টাইল ট্রেড কো: লি: এসব মালামাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। সে অনুযায়ী তারা ১২ কোটি টাকার মালামাল সরবরাহ করেছেন এবং তা আপনারা বুঝে পেয়েছেন বলে লিখিত স্বীকৃতিপত্র দিয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সেসব মালামাল দেখতে চান। এর জবাবে সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালের ১৩ মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সিভিল সার্জনের দায়িত্বে ছিলেন ডা. তৌহিদুর রহমান। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বলতে পারবেন। পরে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান, সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, স্টোর কিপার একে ফজলুল হককেও ডেকে আনা হয় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে। সেখানে আরও ডাকা হয় যন্ত্রপাতি বুঝে নেওয়া সার্ভে কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ জামিল, ডা. আসাদুজ্জামান মেডিসিন ও ডা. শরিফুল ইসলাম সার্জনকে। তাদেরকে বলা হয়, আপনারা ভারি এসব যন্ত্রাংশ চলমান অবস্থায় বুঝে পেয়েছেন বলে স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত স্বীকৃতিপত্র দিয়েছেন। কিন্তু কোথায় সেসব যন্ত্রাংশ? তখন তারা তিনজনই বিষয়টি জানেন না উল্লেখ করে পরিদর্শন কমিটিকে বলেন, তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের স্টোর অফিসার ডা. জয়ন্ত সরকারও বলেন, এ ধরনের কোনো যন্ত্রপাতি আমি গ্রহণ করিনি। তবে সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানের সময়ে উক্ত টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান জানান, বিধি মোতাবেক টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ ও যথাযথভাবে মালামাল এসেছে এবং বুঝে নেওয়া হয়েছে। এসবের বিলও পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হয়েছে। এখানে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়নি।
