বেসরকারি দুর্বল ব্যাংক একত্রিকরণের সুপারিশ বিশ্বব্যাংকের

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৪৮

যে বেসরকারি ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে তাদের অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একত্রিকরণের সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা বেশি। সেইসঙ্গে সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেশি। ব্যাংকিং খাতে সংস্কার ছাড়াও পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে সায় জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমরাও চাইছি দুর্বল ব্যাংকগুলো ‘মার্জার’ বা একত্রিকরণ হোক। এ বিষয়ে আমরাও কথা বলছি। কতগুলো ব্যাংক রয়েছে সেটি বড়ো বিষয় নয়, আমরা তাদের মূলধন বাড়াতে চাই। এজন্য ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধন চারশ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার কোটি টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেইসঙ্গে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একত্রিকরণের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজনে এ সংক্রান্ত বিধি সংশোধন করা হবে।

গত শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল সেক্টর এসেসমেন্ট পোগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী। এসময় অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভা উপলক্ষে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, আমাদের দেশে খেলাপি ঋণের হিসাবে পরিবর্তন আনা হবে। চক্রবৃদ্ধি সুদ সহকারে খেলাপি ঋণের হিসাব করা হয়। তার উপর আবার কর কেটে নেওয়া হচ্ছে। স্বল্প সময়ের খেলাপিরাও হিসাবে চলে আসছে। তাছাড়া কৃষিখাতে খেলাপি ঋণের তথ্যও যোগ করে হিসাব করা হচ্ছে। খেলাপি ঋণের যে তথ্য জানা যায়, সেটি প্রকৃত অর্থে আরো কম। এজন্য কয়েকটি অডিট ফার্মকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা জানা হবে।

সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তারা শুধু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে না, বিভিন্ন নাগরিক সুুবিধা দিতে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষিখাতেও ঋণ দিয়ে যাচ্ছে। এজন্য সার্বিক হিসাবে তাদের খেলাপির হার বেশি মনে হচ্ছে। প্রকৃত অর্থে খেলাপি ঋণের হার অনেক কম।

অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংক পরামর্শ দিয়েছে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একত্রিকরণের সুযোগ দিতে এবং পুঁজিবাজারকে আরো শক্তিশালী করতে। আমরা চাই পুঁজিবাজারও আরো শক্তিশালী হোক। এজন্য আর্থিক খাতে যে সংস্কার নেওয়া প্রয়োজন সেটি করা হবে। পুঁজিবাজারে আগে কিছু অসঙ্গতি ছিল। এখানে স্বল্প মেয়াদের অর্থায়ন করা হতো। আমরা এটি বন্ধ করতে চাই। এজন্য দীর্ঘ মেয়াদে বন্ডের বাজার শক্তিশালী করা হবে। আমরা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাচ্ছি যাতে এটি ব্যাংকগুলোর সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।

শুক্রবার অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অর্পনা সুব্রামানিয়া এবং আইএমএফ-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সুবির গোকর্নের সঙ্গে বৈঠক করেন। মন্ত্রী বলেন, পরবর্তী অর্থায়ন পক্রিয়ায় যেন বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় সে বিষয়ে আমরা বলেছি।

একইদিনে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরে নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, রানি ম্যাক্সিমা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তিনি আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানিয়েছেন। এসময় তিনি বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকাণ্ডে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের বিষয়গুলো নিজে দেখবেন।